আজকাল ওয়েবডেস্ক: কুট্টু আটা দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে রাতারাতি হাসপাতালে ছুটতে হল ৮৫ জনকে। এমনকী, অসুস্থদের তালিকায় রয়েছেন খোদ জেলার ম্যাজিস্ট্রেট! ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে জেলায় জেলায় ধুমধাম করে নবরাত্রি উৎসব চলছিল। বাগপত, বিজনর, বরেলি, বুলন্দ সহ একাধিক এলাকার মানুষকে এই উৎসব উপলক্ষ্যে কুট্টু আটা খাওয়ানো হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, 'কুট্টু কা আটা' দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়ার পর অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, 'এই ঘটনায় আনুমানিক ৮৫ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

অসুস্থদের মধ্যে একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন।' জানা গিয়েছে, বাগপতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিব নারায়ণ সিং সহ ১৮ জনেরও বেশি মানুষ খাওয়ার পরেই বমি করতে শুরু করেন। সকলের শরীরেই অস্বস্তি দেখা দেয়।

তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে সকলের অবস্থাই স্থিতিশীল। জানা গিয়েছে, কাশিমপুর খেড়ি গ্রামের একটি পরিবারের ন'জন সদস্য , মালাকপুর গ্রামের ছ'জন এবং বাওলি গ্রামের দু'জন কুমড়োর আটা দিয়ে তৈরি খাওয়ার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পরেন।

বিজনরে প্রায় ৩০ জন একই ধরনের উপসর্গের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বরেলিতে চিনাবাদামের আটা দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে একই পরিবারের ছ'জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

জানা গিয়েছে, ওই আটা দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই আক্রান্তদের মধ্যে বমি, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বুলন্দ শহরে ৩৬ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য আটার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সদর মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট দীনেশ চন্দ্র বলেন , নবরাত্রির সময় ভক্তরা উপবাস পালন করেন এবং কুট্টু আটা দিয়ে তৈরি ফলাহার গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, সম্ভবত দূষিত বা নষ্ট হয়ে যাওয়া আটা দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়ার ফলেই এই বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দোকান ও সরবরাহকারীদের বিরুধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কুট্টু আটা বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছে, যেন তারা যাচাই না করা বা খোলা কুট্টু আটা কেনা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। প্রসাশনের তরফে কড়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যাঁরা এই ভেজাল আটা বিক্রি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে।

বাজারে ভেজাল কুট্টু আটা বিক্রি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উৎসব উপলক্ষ্যে যেখান থেকে আটা কেনা হয়েছিল সেটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ আধিকারিকরা রোগীদের সাথে দেখা করেছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে।