মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘হাল্ক’কে ঘিরে সাম্প্রতিক ছড়িয়ে পড়া খবর নতুন করে আলোচনায় এনেছে বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ড-কে। আসলে মার্ভেলের টাইমলাইনে স্পাইডার-ম্যানের একক ছবিগুলো বরাবরই বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইভেন্টের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থেকেছে।
‘স্পাইডার ম্যান: হোমকামিং’ ছিল মার্ভেল ইউনিভার্সে স্পাইডার-ম্যানের প্রথম একক অভিযান। ‘স্পাইডার ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ মুক্তি পেয়েছিল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর ঠিক পরেই, যেখানে প্রথমবার ‘এন্ডগেম’-পরবর্তী পৃথিবীর প্রভাব দেখা যায়। আর ‘স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোম’ শুধু আন্ট মে-এর মৃত্যু নয়, একসঙ্গে ফিরিয়ে এনেছিল অ্যান্ড্রু গারফিল্ড ও টোবি ম্যাগুয়ারের ‘স্পাইডার-ম্যান’কেও। সেই ধারাবাহিকতায় দাঁড়িয়ে, ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-ও যে মার্ভেল ইউনিভার্সের পরবর্তী অধ্যায়ে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়।

এদিকে এক সাক্ষাৎকারে মার্ক রাফালো জানিয়েছেন, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-এ হাল্ককে দেখা যাবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও বলেছেন, ভবিষ্যতের কোনও ছবিতে এই চরিত্রটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে তিনি আবার ফিরতে রাজি।

অবশ্য এমসিইউ-তে গোপনীয়তা রক্ষার ইতিহাস মাথায় রাখলে, রাফালোর এই বক্তব্যকে একেবারে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়াও কঠিন। আগেও বহু অভিনেতা ভবিষ্যৎ চরিত্রের উপস্থিতি আড়াল করতে এমন বক্তব্য রেখেছেন। তবু পঞ্চম ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ ছবির বিশাল কাস্টের কথা ভাবলে, হাল্কের অনুপস্থিতি যুক্তিসংগত বলেই মনে হচ্ছে, যাতে অন্য মার্ভেল নায়কদের জন্য পর্যাপ্ত স্ক্রিন টাইম রাখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। কারণ, যদি ‘ডুমসডে’-এ সত্যিই হাল্ক না থাকেন, তাহলে ২০২১-এর ‘সাং চি’ ছবির পর প্রথমবার বড়পর্দায় হাল্ককে দেখা যাবে এই ছবিতেই। শুধু তাই নয়, ২০২১ থেকে শুরু করে ২০২৭-এর ‘অ্যাভেঞ্জার্স: সিক্রেট ওয়ার্স’ পর্যন্ত সময়কালে এটিই হতে চলেছে একমাত্র মার্ভেলের ছবি, যেখানে হাল্কের উপস্থিতি নিশ্চিত।
এর মানে দাঁড়াচ্ছে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর পর ‘হাল্ক’-এর সিনেমাটিক গল্পের প্রায় অর্ধেকটাই নির্ভর করবে ব্র্যান্ড নিউ ডে-এর ওপর। ফলে যারা হাল্কের চরিত্রগত যাত্রা বা তার বর্তমান অবস্থান বুঝতে চান, তাঁদের জন্য এই ছবিটি কার্যত ‘মাস্ট ওয়াচ’ হয়ে উঠছে, যদি না এর মধ্যে অন্য কোনও হাল্ক-কেন্দ্রিক এমসিইউ প্রজেক্ট ঘোষণা হয়।
এদিকে অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: সিক্রেট ওয়ার্স’ গল্পের দিক থেকে ‘ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘এন্ডগেম’-এর থেকে আলাদা হলেও, সাফল্যের নিরিখে আগের সেই ফর্মুলার কিছুটা ছায়া যে থাকবেই, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে ‘সিক্রেট ওয়ার্স’, যা পুরো মাল্টিভার্স সাগা-র ইতি টানবে বলে মনে করা হচ্ছে, সেখানে বহু চরিত্রকে একসঙ্গে দেখার সম্ভাবনা প্রবল।
এই প্রেক্ষিতে হাল্ক যদি ‘ডুমসডে’-তে অনুপস্থিত থাকেন, তাতে মাল্টিভার্স সাগা-র শেষ অধ্যায় থেকে যে তিনি বাদ পড়বেন, এমনটা নয়। বরং ‘স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এমন কোনও মোড় নিতে পারে, যেখানে ব্রুস ব্যানার বা তাঁর সবুজ অবতার এমনভাবে অক্ষম হয়ে পড়বেন, যা ‘ডুমসডে’-এ তাঁর অনুপস্থিতির যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দেবে।
আর ঠিক এখানেই ‘স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শুধুই আরেকটি ‘স্পাইডার-ম্যান’ ছবি না থেকে,মার্ভেলের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
