কলকাতা শুধু একটি শহর নয়, অনেকের কাছেই এটি এক আবেগের নাম। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বলিউড অভিনেত্রী দিব্যা দত্ত। সম্প্রতি তিলোত্তমার প্রতি নিজের আবেগের কথা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, কলকাতার অলিগলি আর সংস্কৃতির মধ্যে এমন এক জাদু আছে যা বারবার তাঁকে এই শহরের টানে ফিরিয়ে আনে।
দিব্যা জানান, কলকাতার সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়েছিল মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়সে এক পারিবারিক বিয়ে উপলক্ষে। সেই বয়সেই হাওড়া ব্রিজের বিশালতা আর রাস্তার ধারের চটপটে খাবার তাঁর মনে দাগ কেটেছিল। তবে অভিনেত্রী হিসেবে এই শহরের সঙ্গে তাঁর পেশাদার সম্পর্ক তৈরি হয় কিংবদন্তি পরিচালক শ্যাম বেনেগালের ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: দ্য ফরগটেন হিরো’ ছবির শুটিংয়ের সময়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দিব্যা বলেন, “শুটিংয়ের অবসরে স্টুডিওর মেকআপ রুমগুলোতে যখন কিংবদন্তি বাঙালি শিল্পীদের ছবি দেখতাম, তখন এক অদ্ভুত শিহরণ হতো। আর এখানকার দুপুরের বিশ্রামের সংস্কৃতি বা ‘ভাত-ঘুম’ বিষয়টি আমার এতটাই ভাল লেগেছে যে আজও আমি কাজের ফাঁকে অন্তত ১৫ মিনিট চোখ বুজে থাকার চেষ্টা করি।”
কলকাতার খাবার নিয়েও দিব্যার উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। শ্যাম বেনেগালই তাঁকে প্রথম খাঁটি মাছে-ভাতে বাঙালির স্বাদ এবং রসগোল্লার মাহাত্ম্য বুঝিয়েছিলেন। এছাড়াও ‘রাম সিং চার্লি’ ছবির শুটিংয়ের সময় কলকাতার জনাকীর্ণ বাজারে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার অভিজ্ঞতা আজও তাঁর কাছে অমলিন। সেই ছবিতে টানা রিকশায় চড়ে ঘোরার মুহূর্তগুলো তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি।
বর্তমানে দিব্যাকে প্রায়ই দেখা যায় কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য উৎসবে। অভিনেত্রীর মতে, ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়েও কলকাতা যেভাবে বইয়ের পাতা আর লাইব্রেরির গন্ধকে আগলে রেখেছে, তা সত্যিই বিরল। পার্ক স্ট্রিটের আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে পিটার ক্যাটের বিখ্যাত চেলো কাবাব— সবকিছুই তাঁর কাছে এই শহরকে ভালবাসার একেকটি অজুহাত। সবশেষে দিব্যা জানান, শহরটি আধুনিক হলেও তার শিকড়কে ভোলেনি, আর এটাই কলকাতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
দিব্যার কথায়, "শ্যাম বেনেগালের একটা দারুণ ব্যাপার ছিল, তিনি আমাদের প্রতিটি জায়গার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। যেমন ধরুন, আমি যখন মাছের ঝোল খেতাম, তিনি আমাকে বলতেন এটা কীভাবে রান্না করা হয় এবং এর বৈশিষ্ট্য কী। তাঁর মাধ্যমেই আমি প্রথম রসগোল্লার স্বাদ পাই, যা পরে আমার ভীষণ প্রিয় হয়ে ওঠে।"
তিনি আরও বলেন, "কলকাতার সবচেয়ে প্রিয় দিক হলো এখানকার বই পড়ার সংস্কৃতি। আজও এখানে বইয়ের অস্তিত্ব আছে।ডিজিটালাইজেশনের এই যুগেও কাগজের ছোঁয়া আর বইয়ের সেই জাদুটা এখানে অনুভব করা যায়। কলকাতার যে বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করে, তা হল প্রয়োজনীয় আধুনিকতা এবং পুরনো ঐতিহ্যকে আগলে রাখার এক চমৎকার ভারসাম্য।
আজকের এই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও যখন দেখি মানুষ বই পড়ছে, তখন সত্যিই খুব ভাল লাগে, মনটা ভরে যায়।"
