গতকাল রাতে প্লেব্যাক গান থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তুমুল আলোচনায় অরিজিৎ সিং। এহেন আবহে সঙ্গীতজগতের অন্দরের এক কড়া বাস্তবতা নিয়ে জনপ্রিয় এই গায়কের করা মন্তব্য ফের ভাইরাল হয়েছে নেটপাড়ায়। শিল্পীদের পারিশ্রমিক ও কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে অরিজিতের দেওয়া সেই বক্তব্য নাড়িয়ে দিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রিকে।
২০২৩ সালে দ্য মিউজিক পডকাস্ট-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, প্রযোজক, পরিচালক ও প্রযোজনা সংস্থাগুলির উচিত শিল্পীদের সঙ্গে পরিষ্কারভাবে কথা বলা। তাঁর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “কাজ করালে টাকা দিন, না হলে কাজ করাবেন না।” অরিজিতের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই একজন শিল্পী যতটা শ্রম ও সময় দেন, তার উপযুক্ত পারিশ্রমিক তিনি পান না। বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই হয় মুখে-মুখে। কোনও লিখিত চুক্তি থাকে না। কাজ শেষ হওয়ার পর শিল্পী বুঝতে পারেন, তিনি যা করেছেন, তার তুলনায় প্রাপ্ত পারিশ্রমিক অনেক কম। অরিজিৎ আরও জানান, শিল্পীরা তাঁদের কাজকে নিছক পেশা হিসেবে দেখেন না। ভাল কিছু তৈরি করার তাগিদে তাঁরা প্রাপ্যের সীমা ছাড়িয়েও কাজ করে ফেলেন। আর সেখানেই সমস্যার শুরু।
এই প্রসঙ্গে অরিজিৎ বলেন, “একজন শিল্পীকে বলা হয় এই কাজটা করো, এত টাকা পাবে। দর কষাকষির পর সে রাজি হয়। কাজ শুরু করার পর সে ভুলে যায়, কতটা কাজ করলে সেই টাকার সমান হয়। শেষে দেখা যায়, যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তার থেকেও কম দেওয়া হচ্ছে। এভাবে শিল্পীকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলা হয়।”
শুধু অভিযোগ নয়, এই সমস্যা সমাধানের কথাও তুলে ধরেছিলেন অরিজিৎ। তাঁর মতে, সঙ্গীতজগতে একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যেমনটা আগে ছিল। সেশন রেকর্ডিংয়ের সময় কোনও শিল্পী চূড়ান্ত সংস্করণে থাকুন বা না থাকুন, কাজ করলেই পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। অরিজিতের মতে,“এটাই সবচেয়ে ভদ্র ও ন্যায্য ব্যবস্থা। সবাই নিজের কাজ করবে, আর তার বদলে সঠিক পারিশ্রমিক পাবে।”তিনি আরও জানিয়েছিলেন, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে একটি দিক নির্দেশনার অভাব রয়েছে। শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীদের নিরাপত্তাবোধ থাকা দরকার। পাশাপাশি, কোনও প্রকল্পে যাঁরা কাজ করছেন, সবাই যেন যথাযথ স্বীকৃতি ও পারিশ্রমিক পান, সেটাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আর এই বক্তব্যের কিছুদিন পরই প্লেব্যাক গান থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন অরিজিৎ। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় তিনি লেখেন, নতুন কোনও প্লেব্যাক কাজ আর গ্রহণ করবেন না। শ্রোতাদের ভালবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর এই যাত্রা ছিল অসাধারণ।
২০১১ সালে মার্ডার ২ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে হিন্দি ছবিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন অরিজিত। এরপর একের পর এক কালজয়ী গান ‘তুম হি হো’, ‘চান্না মেরেয়া’, ‘আগর তুম সাথ হো’, ‘কেশরিয়া’, ‘এ দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘তেরে ইয়ার হুঁ ম্যায়’-এর মতো অসংখ্য গানে তাঁর কণ্ঠ হয়ে উঠেছে অনুভূতির সমার্থক। সাম্প্রতিক সময়ে ‘বর্ডার ২’ ছবির ‘ঘর কাব আউগে’ গানেও তিনি আবেগে ভিজিয়েছেন শ্রোতাদের।
আজ অরিজিৎ আর গান না গাইলেও, শিল্পীদের প্রাপ্য ও সম্মান নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য বহুদিন ধরে সঙ্গীতজগতের অন্দরে জমে থাকা প্রশ্নগুলোকে সামনে এনে দিল নিঃশব্দে, কিন্তু তীব্রভাবে।
