আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই নির্দেশের পরেই বারাসাতের সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির।

এদিন বারাসাতের সভা থেকে অভিষেক দাবি করেন, এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে লাগাতার হয়রানি করা হচ্ছিল।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হছিল। অভিষেক জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর দশজনের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি দিল্লি গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেই বৈঠকে ভোটার তালিকায় থাকা তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র একটি তালিকা প্রকাশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অভিষেক বলেন, 'আমি আজ অত্যন্ত খুশি। উত্তর ২৪ পরগনার মাটি আমার জন্য সৌভাগ্যের।'

সভামঞ্চ থেকে তিনি হুঙ্কার দেন, 'আজ কোর্টে হারালাম। এপ্রিলে ভোটে হারাব। এটা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাট নয়। এই বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে। আমরা বাইরের কারও কাছে মাথা নত করি না। বাংলার মানুষ দাসত্ব করতে জানে না, মেরুদণ্ড বিক্রি করতে জানে না।'

তাঁর দাবি, 'এসআইআর নিয়ে বিজেপির খেলা শেষ। যেসব এক কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেগুলো রক্ষা পেয়েছে। এই জয় বাংলার মানুষের জয়।' তিনি আরও বলেন, 'ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়েছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই চেষ্টাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে।'

এর আগে, রাজ্যের শাসক দল, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি বারবার সরব হয়েছেন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে। এর আগে, ১৩ তারিখে নবান্ন সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে সুর চড়ান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।

তিনি বলেন, খবর আছে, আগে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র নামে আরও এক কোটি ৩৩ লক্ষ থেকে ৩৬ লক্ষ নামের তালিকা করেছে, যে তালিকা কোনও দলকে দেয়নি। 

মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বলছে ইআরও নাকি বাদ দিয়েছে, কোনও ইআরও জানে না। ৫৪ লক্ষ নামের মধ্যে বেশিরভাগ সমস্ত বৈধ ভোটার। যাঁর নাম ডিলিট করা হয়েছে, তাঁদের কিন্তু ফর্ম সেভেন, এইট পূরণ করার অধিকার রয়েছে। কেউ জানতেই পারল না, ৫৪ লক্ষ কাদের নাম বাদ দেওয়া হল। কোন দলকে এই তালিকা দেওয়া হয়নি। বিজেপি পেতে পারে, ওরাই তো সব করছে। আমরা সেই খসড়া তালিকা আজ পর্যন্ত দেখতে পাইনি। ৫৪ লক্ষ নামের নথি কাউকে দেওয়া হয়নি।'

তবে এবার, নির্বাচন কমিশনকে এসআইআরে-এ তথ্যগত অসঙ্গতি অর্থাৎ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এই কারণে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাঁদের থেকে কোন কোন তথ্য নেওয়া হয়েছে, তাও প্রকাশ করার নির্দেশ, সূত্রের খবর তেমনটাই।

সূত্রের খবর, এদিন মামলায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে।