ইন্ডাস্ট্রিতে বহু দশক পার করেছেন অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডল। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দায় বিভিন্ন চরিত্রে দর্শকের ভালবাসা পেয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে দর্শক তাঁকে দেখছেন জি বাংলার ধারাবাহিক 'আনন্দী'তে। নায়কের ঠাম্মির চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।‌ নায়ক-নায়িকা অর্থাৎ ঋত্বিক মুখার্জি ও অন্বেষা হাজরার মতো তাঁর চরিত্রটিও দর্শক মহলে প্রিয় হয়ে উঠেছে। বয়স বাড়লেও কি কাজের চাপ কমেছে? নাকি শুটিং ফ্লোরে সময়ের সঙ্গে তিনিও তাল মিলিয়ে চলেছেন? 

আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, "নাহ, এখন তো ১৪ ঘণ্টা শুটিংয়ের নিয়ম। সে তোমার সিন থাকুক কী না থাকুক। নিয়ম মেনে ফ্লোরে এসে বসে থাকতে হবেই। আমি তো মাঝেমধ্যে মজা করে বলি, আমরা বসে থাকার জন্য টাকা পাই।" 

গরমের পারদ চড়ছে, সামনে আসছে বর্ষাকালও, এই সময় কি একটুও ছাড় থাকে? কল্যাণী মণ্ডলের কথায়, "একেবারেই নয়। ধরো সকাল আটটায় কল টাইম, খুব রিকোয়েস্ট করলাম যদি সাড়ে আটটায় আসা যায়, তখন হয়তো দয়া করে অনুমতি দিল। কিন্তু এসে দেখলাম ওমা! ডাকে আর না। বসেই আছি হয়তো একটা পর্যন্ত। কখনও কখনও লাঞ্চের পরে সন্ধে সাতটা অবধি বসে আছি। কতবার তো সকালে একটা সিন করে সেই রাত ন'টা অবধি বসে থাকতে হয়েছে‌। আমরা মজা করে বলি, যেন ইডি ডেকে নিয়ে গিয়েছে। জেরা করার জন্য যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়, যেন তেমনই।"

বর্ষীয়ান শিল্পী বলে ফ্লোরে তেমন একটা সুবিধাও পান না বলে জানিয়েছেন কল্যাণী মণ্ডল। তাঁর কথায়, "একসঙ্গে চার-পাঁচজন একটা মেকআপ রুমে বসি‌। কখনও ভিড় বেশি হলে রোদে, গরমে বাইরে হাঁটা চলা করতে হয়, বসার জায়গা থাকে না‌। এই বয়সে কতক্ষণ একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে থাকা যায়? এটা আমার বলে নয়, সবারই একই সমস্যা। কিন্তু কী করব? শুটিং তো করতেই হবে। যদিও আগে কিন্তু এমন হতো না। রবি ওঝার সঙ্গে কাজ করেছি, সেই সময় আরও পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি, এরকম হতো না। কল টাইম থাকতো, আসতাম, মেকআপ করতাম, সিন পড়তাম, ফ্লোরে যেতাম ব্যাস। এখন তো সেসব হয় না। তার উপরে গোটা মাসটা তো বসেই আছি, একদিন মাত্র ডেকেছিল। কিন্তু কাজে নেওয়ার সময় বলেছিল মাসে ১৫ দিন ডেট থাকবে। আমি একজন সিনিয়র আর্টিস্ট হয়ে কি কাজ চাইব? এটা সাজে আমার? সবারই তো সংসার আছে। যাক গে, ফ্লোরের সবাই ভাল একটা পরিবার, শুধু আমিই খারাপ। কারণ, নিজেরটা তো নিজের মুখে বলতে পারি না, তাই।"