ভারতের গরমকাল সবসময়ই বেশ কষ্টকর। প্রচণ্ড রোদ, ঘাম এবং জলশূন্যতার কারণে এই সময়ে শরীরের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আগে গৃহস্থ বাড়িতে গরমের জন্য কিছু বিশেষ খাবার ও পানীয় নিয়মিত খাওয়া হত। যা শুধু শরীর ঠান্ডা রাখত না, হজমশক্তি বাড়াত এবং এনার্জিও জোগাত।
2
10
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলির জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে। বদলে জায়গা করে নিচ্ছে কোল্ডড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাত জুস এবং নানা ধরনের প্রসেসড খাবার।
3
10
এর মধ্যে অন্যতম হল ঘোল বা ছাছ। দই ও জল মিশিয়ে তৈরি এই পানীয় গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখে। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি উন্নত করে এবং পেটের নানা সমস্যা কমায়। একসময় দুপুরের খাবারের পর এক গ্লাস ঘোল খাওয়ার অভ্যাস ছিল বহু মানুষের। এখন সেই অভ্যাস অনেকটাই কমে গিয়েছে।
4
10
দই-ও গরমের একটি আদর্শ খাবার। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজমে সহায়ক। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই সাধারণ দইয়ের বদলে বেশি চিনি-যুক্ত ফ্লেভারড দই বা অন্য খাবার বেছে নিচ্ছেন।
5
10
গরমের দিনে ছাতু ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভাজা ছোলার গুঁড়ো দিয়ে তৈরি এই পানীয় শরীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে প্রচুর প্রোটিন ও ফাইবার থাকে। গ্রামাঞ্চলে এখনও এর জ
6
10
কাঁচা আমের শরবত বা আমপোড়া গরমে লু থেকে বাঁচার একটি পরীক্ষিত উপায়। কাঁচা আম পুড়িয়ে তৈরি এই পানীয় শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে। আগে গ্রীষ্মকালে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এটি তৈরি হত, কিন্তু এখন বাজারের বোতলজাত পানীয় তার জায়গা নিচ্ছে।
7
10
এছাড়া তরমুজ গরমের সবচেয়ে উপকারী ফলগুলির মধ্যে একটি। এতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। একইভাবে ডাবের জলও প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের অন্যতম উৎস। গরমে শরীরের জল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি খুবই কার্যকর।
8
10
একসময় গরমকালে সাবুদানা খাওয়ার চলও ছিল। এটি সহজপাচ্য এবং দ্রুত শক্তি জোগায়। বর্তমানে এটি মূলত উপবাসের খাবার হিসেবেই বেশি পরিচিত।
9
10
এছাড়া রাগি, বাজরা ও জোয়ারের মতো মিলেট জাতীয় শস্য ধীরে ধীরে মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই শস্যগুলিতে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক খাবারের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলিকে আবার খাদ্যতালিকায় ফিরিয়ে আনা উচিত। কারণ এগুলি শুধু প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকরই নয়, ভারতীয় গরমের সঙ্গে লড়াই করার জন্যও অত্যন্ত কার্যকর।