তরুণদের জন্য সুখবর। সম্প্রতি যদি, কেউ তাঁর প্রথম বেসরকারি চাকরি শুরু করে থাকেন বা আগামী দিনে কোনও আনুষ্ঠানিক খাতে (যেমন- ইপিএফও নথিভুক্ত সংস্থা) যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি চমৎকার প্রকল্প আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
2
10
এই প্রকল্পের নাম- 'প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা'।
3
10
এই প্রকল্পের আওতায়, সরকার প্রথমবার চাকরিপ্রার্থীদের ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নগদ দিচ্ছে। এই পুরো প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৯৯,৪৪৬ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে। যার লক্ষ্য সাড়ে তিন কোটিরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
4
10
এবার জেনে নেওয়া যাক কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য এবং কীভাবে এই অর্থ আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে?
5
10
প্রথমবার চাকরিপ্রার্থীরা পাচ্ছেন ১৫,০০০ টাকার উপহার। সরকারের 'এমপ্লয়মেন্ট লিঙ্কড ইনসেন্টিভ' বা কর্মসংস্থান-ভিত্তিক উদ্যোগ প্রকল্পের অংশ হিসেবে, নতুন কর্মীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ (সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) প্রদান করা হবে।
6
10
মাসিক ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মোট বেতন (গ্রস স্যালারি) পাওয়া কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন। এই সুবিধাটি শুধুমাত্র সেইসব চাকরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যারা চাকরি-জীবন ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শুরু হয়েছে বা হবে।
7
10
কারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য নন? সরকারি কর্মীরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না, কারণ তাঁরা ইপিএফও-এর আওতাভুক্ত নন। বরং তাঁরা এনপিএস বা জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর আওতাভুক্ত। ১৫,০০০ টাকার এই উদ্যোগ 'ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার'-এর মাধ্যমে দু'টি কিস্তিতে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।
8
10
প্রথম কিস্তিটি আপনার চাকরির ৬ মাস একটানা কাজ সম্পন্ন করার পর দেওয়া হবে। দ্বিতীয় কিস্তিটি ১২ মাস চাকরি পূর্ণ করার পর এবং সরকারের নির্দেশিত 'আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি' সফলভাবে সম্পন্ন করার পর পাওয়া যাবে। এই দ্বিতীয় কিস্তির একটি অংশ সরাসরি আপনার সঞ্চয় প্রকল্পে স্থানান্তর করা হবে।
9
10
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে কর্মীদের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ইপিএফও-এর নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত নতুন সদস্যকে 'ফেস অথেন্টিকেশন টেকনোলজি' মাধ্যমে তাঁদের 'ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর' (ইউএএন) যাচাই করতে হবে। এই যাচাইকরণ ছাড়া অর্থ দেওয়া হবে না। এছাড়াও, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই আপনার সরকারি পরিচয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে এবং এতে ডিবিটি লেনদেনের সুবিধা চালু থাকতে হবে। যদি এমনটা না হয়ে থাকে, তবে অনুগ্রহ করে অবিলম্বে আপনার ব্যাঙ্ক শাখায় যোগাযোগ করুন।
10
10
এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়োগকর্তারাও উপকৃত হবেন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী - উভয়ই প্রতিটি কর্মীর জন্য মাসে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। তবে কর্মীদের একটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে- ১. কন্ট্রিবিউশন জমা দিতে দেরি হলে ক্ষতি হতে পারে। যদি আপনার কোম্পানি সময়মতো ইসিআর জমা দিতে ব্যর্থ হয় বা ইপিএফ কন্ট্রিবিউশন জমা দিতে দেরি করে, তবে কর্মীর প্রাপ্য প্রণোদনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ২. দ্রুত বর্ধনশীল সংখ্যা: শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ২০.৭ লক্ষেরও বেশি নতুন কর্মী এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং ২.৩৫ লক্ষেরও বেশি কোম্পানি এই পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছে।