ইমতিয়াজ আলির অন্যতম কালজয়ী ছবি 'রকস্টার'। আর এই ছবিতেই একটি দৃশ্যে দেখা যায় 'কুন ফায়া কুন' গানটি গাইতে গাইতে ঘোরের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে রণবীর কাপুর অভিনীত চরিত্র 'জর্ডান'। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০১১ সালে। ১৫ বছর পরও আজও যেমন ছবিটি দর্শকদের মনে বারবার দাগ কাটে, বা স্মরণীয় হয়ে আছে, তেমনই এই গানটি। সম্প্রতি এই গানের সঙ্গে জড়িত এক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন খোদ ছবির পরিচালক ইমতিয়াজ আলি। 

সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ আলি 'কুন ফায়া কুন' গানটি প্রসঙ্গে বলেন, 'এই গানটির ক্রেডিট আমি নিতে পারব না। এটার কৃতিত্ব সম্পূর্ণ ভাবে এ আর রহমানের। এবং একই সঙ্গে ইরশাদ কামিলের। এছাড়া, এই গানে রয়েছে ঋগবেদ, কোরানের অন্তর্নিহিত ভাবনা। রয়েছে ভগবত গীতার বাণীর মর্মার্থ। এটা কি জানতেন?' তাঁর আরও সংযোজন, 'গানটিতে একটি লাইন আছে, জব কহি ভি কুছ নেহি, ভি নেহি থা, এই লাইনটি ঋগবেদের। ঋগবেদের বিশ্ব, ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির মন্ত্র থেকে নেওয়া। আবার কুন ফায়া কুন কথাটি কোরানের। এই কথাটি কিন্তু আবার বাইবেলেও আছে, আছে এবং ছিল।' 

ইমতিয়াজ আলি এদিন এই গান প্রসঙ্গে আরও বলেন, রহমান গানটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতা এবং দায়িত্বের সঙ্গে তৈরি করেছেন। তাঁর কথায়, 'একাধিক বই থেকে মর্মার্থ নিয়ে গানটি বানানো হয়েছে। রহমান স্যার গানটিকে বিশ্বাস করতেন। তিনি বলতেন, 'গানটি দারুণ শক্তিশালী'। উনি বারবার বলতেন, 'আরও মানুষের সঙ্গে ওঁর কথা বলা দরকার গানের লিরিক্স নিয়ে'।' 

কেবল গান লেখা বা বানানোর সময় নয়, রেকর্ডিংও অত্যন্ত পবিত্রতা মেনেই হয়েছিল বলে জানান ইমতিয়াজ আলি। তাঁর কথায়, 'আমরা যেদিন, যখন গানটি রেকর্ড করতে যাই, হাত, মুখ, পা ধুয়ে খালি পায়ে এসেছিলাম। গানটির মধ্যে এত ভ্যালু, সেটার দায় আমাদের নিতেই হতো।' 

প্রসঙ্গত, 'রকস্টার' ছবিটি ২০১১ সালে মুক্তি পায়। ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত সেই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রণবীর কাপুর, নোরা ফতেহি ছিলেন। বলাই বাহুল্য এই ছবিটি অভিনেতার কেরিয়ারের অন্যতম একটি মাইলস্টোন হয়ে থেকে গিয়েছে।