প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে ভাগ্যের চাকা ঘোরে ধারাবাহিকের। জিইসি (জেনারেল এন্টারটেনমেন্ট চ্যানেল)র নিয়ম মেনে এতদিন প্রকাশিত হত প্রতিটি চ্যানেলের ধারাবাহিকের সাপ্তাহিক ফলাফল। সেখান থেকেই বিচার করা হত, কে এগিয়ে আর কে পিছিয়ে। তবে এবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশনায় ‘ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল’ বা বার্ককে অনির্দিষ্টকালের জন্য টিআরপি প্রকাশ না করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যতক্ষণ না বার্কের লাইসেন্সের নবীকরণ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আসবে না টিআরপি।
এই পরিস্থিতিতে কী হাল টেলিভিশনের নায়ক-নায়িকাদের? চাপ বাড়ল না কমল? জনপ্রিয়তায় কি কোনও প্রভাব পড়ল? জানতে আজকাল ডট ইন-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল স্টার জলসার ধারাবাহিক 'প্রোফেসার বিদ্যা ব্যানার্জি'র নায়িকা স্বস্তিকা দত্ত, নায়ক অর্ণব ব্যানার্জি, জি বাংলার ধারাবাহিক 'জোয়ার ভাঁটা'র নায়িকা আরাত্রিকা মাইতি ও 'তারে ধরি ধরি'র পল্লবী শর্মার সঙ্গে।
পর্দার 'বিদ্যা' স্বস্তিকার কথায়, "আমি স্নেহাশিসদা (স্নেহাশিস চক্রবর্তী)র ধারাবাহিকে কাজ করি তো, এর আগেও দাদা এমন অনেক ধারাবাহিক এনেছেন যেগুলো সেই সময় ১২,১৩ নম্বর পেয়েছে টিআরপিতে। এখন সেই অনুপাতে নম্বরের পরিমাপ কমেছে। তবুও বিদ্যা ব্যানার্জি কিন্তু ৪ পর্যন্ত নম্বর তুলেছিল। আমার কাছে টিআরপি এলেও ভাল, না এলেও ক্ষতি নেই। তবে টিআরপি একটা ইন্সপিরেশনের কাজ করে। আমাদের কাছেও, ক্যামেরার ওপারে যাঁরা নিয়মিত কাজ করছেন তাদের কাছেও। আমার কাছে টিআরপি ভাল কাজ করার জন্য একটা স্বীকৃতি। কিন্তু এর জন্য আমার প্রচেষ্টায় কোনও খামতি থাকবে না। আমি যেমন কাজ করছিলাম তেমনই করব।"
বিদ্যার নায়ক অর্ণব বলেন, "আমার কাছে টিআরপি জনপ্রিয়তার মাপকাঠি নয়। আমি কোনওদিন টিআরপির বিচারে কাজ করিনি। এসব থেকে যতটা পারি দূরে থাকার চেষ্টা করি। টিআরপি না আসায় একটা জিনিস ভাল হয়েছে এবার প্রতিযোগিতা কমবে। চাপ থাকবে না কোনও।"
পর্দার 'উজি' ওরফে আরাত্রিকার কথায়, "শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা বেঙ্গল টপার হচ্ছিলাম। আর এই সময়ই টিআরপি আসাটা বন্ধ হয়ে গেল। এটা সত্যিই আমাদের জন্য খুব খারাপ খবর। এরপর যেদিন টিআরপি আসবে তখন বুঝতে পারব এতদিন বন্ধ থাকায় আমাদের মেগার উপর কোনও এফেক্ট পড়ল কিনা। কিন্তু এর মধ্যে একটা বিষয় বলব, অনেক ভাল ভাল ধারাবাহিক আছে, শো আছে যেগুলোর ভবিষ্যৎ টিআরপির চাপে অনিশ্চিত। এই সময়টা তাদের জন্য ভাল। কারণ রেটিং চার্ট তো বিচারের চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে পারে না।"
অভিনেত্রী পল্লবী শর্মা বলেন, "আগে যখন কাজ করেছি তখন টিআরপি নিয়ে এত মাথা ঘামাতাম না। এখন টিআরপি নিয়ে মাতামাতিটা বড্ড বেশি। কিন্তু আমার মনে হয়, টিআরপি এল কী এল না, এসব নিয়ে আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের না ভাবলেও চলবে। আমরা যদি মন দিয়ে নিজের কাজটুকু করি, তাহলেই বোধহয় মানসিক চাপটা কমবে। যদিও একটা ধারাবাহিকের টিআরপির নম্বর মোটিভেট করে সবাইকে। তবুও আমার উপর এই বিষয়টা খুব একটা প্রভাব ফেলে না।"















