গানের সুরে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন অরিজিৎ সিং। এবার তাঁর মানবিক গুণেও মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতারা৷ সম্প্রতি এক অসুস্থ খুদে অনুরাগীর আবদারে সাড়া দিয়ে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে যান অরিজিৎ। ঘটনাটি কলকাতার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালের।
বছর আটের সেই শিশুটি গত কয়েক দিন ধরেই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছে৷ তার একমাত্র সঙ্গী অরিজিৎ সিং-এর গান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থতার মধ্যেও বারবার সে একটাই কথা বলছিল, “একবার অরিজিৎ দাদাকে দেখব।”
খুদের সেই ইচ্ছের কথা কোনওভাবে পৌঁছে গিয়েছে অরিজিতের কাছে। ব্যস্ত সফর ও রেকর্ডিং শিডিউলের ফাঁকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন শিশুটির সঙ্গে দেখা করার। প্রচারের আলো এড়িয়ে, কোনও সংবাদমাধ্যমকে না জানিয়েই গতকাল সন্ধেবেলা অরিজিৎ পৌঁছে যান বেসরকারি হাসপাতালে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে ঢুকেই প্রথমে স্যানিটাইজার দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নেন অরিজিৎ। তারপর নীরবে গিয়ে দাঁড়ান শিশুটির বেডের পাশে । প্রিয় গায়ককে হঠাৎ সামনে দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যায় খুদে ভক্ত। পরক্ষণেই সমস্ত যন্ত্রণা, অসুস্থতা ভুলে তার মুখে ফুটে ওঠে চওড়া হাসি। হাসপাতালের বিছানায় বসেই প্রিয় দাদার সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলে শিশুটি।
সেই মুহূর্তের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে সেটি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অরিজিৎ শিশুটির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, দু'জনেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত নেটিজেনরা। কেউ লিখেছেন, “অরিজিৎ শুধু গায়ক নন, উনি আবেগ।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “মুর্শিদাবাদের মাটি সত্যিই রত্ন গড়ে।”
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার অরিজিতের উদার মনোভাবের সাক্ষী থেকেছে দেশ। জিয়াগঞ্জের বাড়িতে দুঃস্থ ছাত্রদের বিনামূল্যে পড়ানো, বন্যা কবলিত মানুষকে সাহায্য, কিংবা মুর্শিদাবাদের পুরনো স্কুলকে নতুন করে সাজিয়ে দেওয়া, এই সবকিছুই করেছেন অরিজিৎ। কোভিড অতিমারীর সময়ও নীরবে মানুষের পাশে থেকেছেন অরিজিৎ এবং তাঁর টিম। প্রচারের আড়ালেই বারবার মানবিকতার অনন্য নজির গড়েছেন অরিজিৎ।
এই সমস্ত কাজ প্রচারে আসুক অরিজিৎ চান না। তাই এবারেও সংবাদমাধ্যমের চোখ এড়িয়ে খুদে ভক্তর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কিন্তু হাসপাতালে উপস্থিত মানুষজন অরিজিৎকে হাসপাতালে দেখতে পেয়ে সেল্ফি তোলার সুযোগ ছাড়েননি।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, অরিজিত আধঘণ্টা ছিলেন৷ এইটুকু সময়েই মানসিকভাবে অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ওই খুদে ভক্ত সহ আরও একাধিক রোগী। চিকিৎসকদের মতে, রোগীর মনোবলই অনেক সময় ওষুধের চেয়ে বেশি কাজ করে।
সুরের পাশাপাশি মনুষ্যত্বের এই বেনজির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অরিজিৎ সিং আবারও বুঝিয়ে দিলেন, তারকা হওয়া যায় খ্যাতিতে, কিন্তু মানুষের মনে জায়গা করে নিতে লাগে হৃদয়।















