বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে আবারও মুখ খুললেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, সুশান্ত সিং রাজপুত এবং জিয়া খানের অকাল মৃত্যুর পিছনে দায়ী বলিউডের শক্তিশালী ‘মাফিয়া’ চক্র। তনুশ্রীর দাবি, এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীটি পরিকল্পিতভাবে তরুণ প্রতিভাদের কোণঠাসা করে দেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হয় অত্যন্ত মর্মান্তিক।
তনুশ্রী বলেন, “সুশান্ত বা জিয়া কেবল মানসিক অবসাদের কারণে প্রাণ হারাননি। তাঁদের এমন এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল যেখান থেকে ফেরার পথ ছিল না।” তাঁর মতে, বলিউডের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট চক্র কাজ করে যারা ঠিক করে দেয় কে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকবে আর কাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই ‘মুভি মাফিয়া’রা সুশান্তের কেরিয়ার ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছিল এবং একের পর এক প্রজেক্ট থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তনুশ্রী দত্ত জানান, চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুখে না পড়লে কেউ সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত নেয় না। তিনি বলেন, “কোনও সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হুট করে ঘুম থেকে উঠে জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় না। বিশেষ করে যে সাফল্যের মুখ দেখেছে এবং নিজের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। যখন কারওর নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন বা ‘সেলফ-টক’ পরাজয় মেনে নেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন বুঝতে হবে নিশ্চিয়ই গুরুতর কিছু ঘটেছে।”
বলিউডের তথাকথিত প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ‘মাফিয়া’ চক্রের কার্যপদ্ধতি নিয়ে তনুশ্রী বলেন যে, যারা তাঁদের কথা মেনে চলে না, তাদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়। তাঁর কথায় আজ, “এই মাফিয়া ঘরানার মানুষগুলোর অহংকার আকাশচুম্বী। আপনি যদি তাঁদের দেখানো পথে না হাঁটেন, তবে আপনি তাঁদের শত্রু হয়ে যাবেন। যারা সততার সাথে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়, তাদেরকেই টার্গেট করে হেনস্তা করা হয়।”
তিনি আরও জানান যে, এমনকী অত্যন্ত মেধাবী এবং জনপ্রিয় অভিনেতাদেরও কোণঠাসা করে দেওয়া হতে পারে। তনুশ্রী দাবি করেন, “মুষ্টিমেয় কিছু শক্তিশালী মানুষ উঠতি অভিনেতাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। এবার সে যদি তাঁদের অনুগত না হয়, তবে তাঁরা তাকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। তাঁরা চাইলে যে কারওর কেরিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে।”
জিয়া খানের মৃত্যু প্রসঙ্গে তনুশ্রী জানান, জিয়ার ঘটনাটিকেও নিছক আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এর পিছনেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। তনুশ্রীর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রির এই নোংরা রাজনীতি নতুন নয়। আমিও এর শিকার হয়েছিলাম। যখন কেউ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তখন তাঁকে ‘পাগল’ বা ‘অস্থির’ তকমা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি থেকে একঘরে করে দেওয়া হয়।”
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির সেটে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে ভারতে ‘মি টু’ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তনুশ্রী। তারপর থেকেই তিনি বলিউডের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন বলে তাঁর দাবি। দীর্ঘ সময় বিনোদন জগৎ থেকে দূরে থাকার পর আবারও তাঁর এই মন্তব্য বি-টাউনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তনুশ্রীর এই বয়ান ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।















