করিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্ত্রী সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর ৩০ হাজার কোটির সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয়েছে পারিবারিক বিবাদ! করিশ্মা তাঁর দুই সন্তান সামাইরা ও কিয়ানের সঙ্গে সঞ্জয়ের তৃতীয় স্ত্রী প্রিয়া সাচদেবের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। করিশ্মা ও তাঁর সন্তানরা অভিযোগ করেছিলেন প্রথমেই, সঞ্জয় কাপুরের দলিল জাল করেছেন প্রিয়া এবং তাঁদের উত্তরাধিকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও করিশ্মা সরাসরি আদালতে উপস্থিত থেকে এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন না। তবুও তাঁর দৃঢ়তা, সাহসিকতা এবং নীরবতা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। 

 

প্রিয়া কাপুর এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন। করিশ্মা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুরের ২০১৬ সালের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত সমস্ত নথির সার্টিফায়েড কপি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তিনি।সূত্রের খবর, করিশ্মা-সঞ্জয়ের বিবাহবিচ্ছেদের মামলার সময় যে আর্থিক সমঝোতা এবং সন্তানদের হেফাজত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেসবের বিষয়ে বিস্তারিত জানতেই এই আবেদন প্রিয়া কাপুরের। তাঁর দাবি, প্রয়াত স্বামীর আর্থিক দায়দায়িত্ব ও পারিবারিক বন্দোবস্তের সম্পূর্ণ ছবি স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য এই নথিগুলি প্রয়োজন। এই মামলাটি আপাতত বিচারপতি এ. এস. চন্দুরকরের বেঞ্চে বিবেচনাধীন। আদালতই ঠিক করবে, এতদিন গোপন থাকা এই সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত নথিগুলি আদৌ প্রিয়া কাপুরের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না।

 

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর করিশ্মা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুরের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। সেই সময় আর্থিক বন্দোবস্ত এবং দুই সন্তানের হেফাজত নিয়ে একাধিক শর্তে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সেই সমস্ত নথি আদালতের গোপন নথি হিসেবেই সংরক্ষিত রয়েছে। সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলি নতুন করে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞদের একাংশ। প্রিয়া কাপুরের এই আবেদন সেই জটিলতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

 

এখন নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে। প্রাক্তন দাম্পত্যের গোপন অধ্যায় কি প্রকাশ্যে আসবে না কি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার দেওয়াল অটুটই থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দিনে এই মামলার গতিপথ ঠিক করে দেবে।