ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের দামামা আর ডলারের দাপট- এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে মধ্যবিত্তের সোনার গয়নায় টান পড়ছে।
2
8
যুদ্ধ বা অশান্তি শুরু হলেই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। শেয়ার বাজারে ধস নামার ভয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীরা টাকা তুলে সোনা কিনতে শুরু করেন। কারণ, সোনা সবচেয়ে ভরসার জায়গা। সবাই মিলে সোনা কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে তার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়।
3
8
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা কেনাবেচা হয় মার্কিন ডলারে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের ফলে ডলার যদি শক্তিশালী হয়, তবে অন্যান্য দেশের মুদ্রার (যেমন টাকা) দাম পড়ে যায়। তখন বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে বেশি টাকা খরচ হয়, যার দায় শেষ পর্যন্ত ক্রেতাকেই বইতে হয়।
4
8
যুদ্ধের মেঘ ঘনালে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক বা অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বাড়তি সতর্কতা নেয়। তারা নিজেদের ভাণ্ডারে ডলারের বদলে সোনা জমাতে শুরু করে। বড় দেশগুলো যখন টন টন সোনা মজুত করতে শুরু করে, বাজারে তখন সোনার আকাল দেখা দেয় এবং দাম চড়চড়িয়ে বাড়ে।
5
8
ইরান তেলের বড় ঘাঁটি। সেখানে সংঘর্ষ মানেই খনিজ তেলের বাজারে আগুন। আর তেলের দাম বাড়া মানেই জিনিসের দাম বাড়া বা মুদ্রাস্ফীতি। এই মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে পকেটের টাকা বাঁচাতে মানুষ তখন সোনার ওপর ভরসা করে, যা পরোক্ষভাবে সোনার দাম বাড়িয়ে দেয়।
6
8
বিদেশি বাজারে সোনার দাম না বাড়লেও অনেক সময় ঘরের বাজারে দাম বেড়ে যায়। এর কারণ হলো ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম কমে যাওয়া। যুদ্ধাবস্থায় যখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজার থেকে টাকা সরিয়ে নেন, তখন টাকা দুর্বল হয় এবং আমাদের দেশে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়।
7
8
আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ‘ফেড’ সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার ওপর সোনার দাম দাঁড়িয়ে থাকে। যুদ্ধের আবহে যদি আমেরিকা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে বা কমায়, তবে বিশ্বজুড়ে মানুষ সোনার দিকে বেশি ঝোঁকেন। ফলে সোনার দামের বড়সড় হেরফের হয়৷
8
8
যুদ্ধ শুরু হলে আকাশপথ বা সমুদ্রপথে সোনা আনা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জাহাজের বিমার খরচ বা পরিবহনের খরচ অনেকটা বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে সোনা আনতে এই যে বাড়তি খরচ হয়, সেটা জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা সোনার দামের সঙ্গে যুক্ত করে দেন।