রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমের আরও পাঁচটি স্কোয়াড্রন কেনার পথে এগোচ্ছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় বায়ুসেনার প্রস্তাব খুব শিগগিরই ছাড়পত্রের জন্য তোলা হবে।
2
8
২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি স্কোয়াড্রন কেনার কথা ছিল, যার মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ভারতে মোতায়েন হয়েছে এবং বাকি দু’টি চলতি বছর যুক্ত হওয়ার কথা।
3
8
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ এস-৪০০-এর সাফল্য। ভারতীয় বায়ুসেনা দাবি করেছে, ওই অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক যুদ্ধবিমান, এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম ও ইলেকট্রনিক নজরদারি প্ল্যাটফর্মকে কার্যত অকার্যকর করে দেয় এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
4
8
১০ মে চারদিনের সংঘাতে সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রাডার স্থাপনা এবং কমান্ড সেন্টারে হামলার সময় এস-৪০০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
5
8
ভারতে এই সিস্টেমটি ‘সুদর্শন চক্র’ নামেও পরিচিত। এটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম। সরকারি সূত্রের দাবি, সংঘাতের সময় পাকিস্তান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রও সফলভাবে প্রতিহত করে এই ব্যবস্থা। ফলে দেশের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে।
6
8
অন্যদিকে, পাকিস্তান ওই সময় চীনা উৎপাদিত HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করেছিল। তবে ভারতীয় কর্তাদের মতে, সেটি ভারতীয় অভিযানের মোকাবিলায় তেমন কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। আন্তর্জাতিক স্তরেও HQ-9-এর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা এস-৪০০-এর সঙ্গে তুলনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
7
8
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতাও ভারতের কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। মার্কিন-ইজরায়েলি অভিযানের জেরে ইরানে শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং পরবর্তী আঞ্চলিক উত্তেজনা বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্ত—দুই দিকেই অতিরিক্ত এস-৪০০ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।
8
8
রাশিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন টেন্ডার জারি হতে পারে। পাশাপাশি আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যেও কাজ চলছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ‘প্রজেক্ট কুশা’-র অধীনে একটি দেশীয় দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।