জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল প্রয়াত। বয়স হয়েছিল মাত্র ৫২। জানা গিয়েছে, পুরী থেকে ফেরার পথে রাস্তাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তিও করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে স্থান্তারিত করা হয় অন্য আরেকটি হাসপাতালে। তবে এত করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি সাধক বামাক্ষ্যাপা ধারাবাহিক খ্যাত এই জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকারকে। এই কাহিনি ও চিত্রনাট্যকারের ঝুলিতে রয়েছে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘কিরণমালা’, ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘কৃষ্ণ’, ‘সাধক রামপ্রসাদ’ -এর মতো একাধিক হিট পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিক। 


ঋতম ঘোষালের অকস্মাৎ মৃত্যুতে স্তব্ধ টলিপাড়া। নেটপাড়ায় শোকপ্রকাশ করেছেন অনেকেই।  আজকাল ডট ইন-এর কাছে শোক প্রকাশ করেছেন ‘সাধক বামাখ্যাপা’-এর নায়ক অরিন্দম গাঙ্গুলি। দীর্ঘ আট বছর বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকের কাহিনী এবং চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল ঋতমের উপরে। ধীরে ধীরে সহকর্মীর পরিসর টপকে তাঁদের সম্পর্ক একপ্রকার পারিবারিক-ই হয়ে যায়।  আজকাল ডট ইন-কে অভিনেতা বলেন,  “দশ বছর ধরে সাধক বামাক্ষ্যাপা ছোটপর্দায় চলেছিল। তার মধ্যে আমিই অভিনয় করেছি টানা আট বছর। কী অপূর্ব কাজটাই না করেছিল ঋতম। টানা দশ বছর একটি ধারাবাহিক লিখে যাওয়া অত্যন্ত দুরূহ কাজ আর সেটাই অত্যন্ত নিপুণভাবে সামলেছিল ঋতম। পড়াশোনা করত খুব। সেটে আমার ঘরেই বসত। ওখানেই কাগজে খসখস করে একের পর এক দৃশ্য লিখে যেত। আলোচনা করত আমার সঙ্গে। কোথাও আটকালে আমার থেকে পরামর্শ চাইত। ও লিখতে আমি পাঠ করতাম...খুব মনে পড়ছে সেসব কথা। ধরুন, কোনও দৃশ্যে লেখা আটকে গেল, আমাকে ও সটান বলে দিতে পারত, ‘অরিন্দমদা, তুমি বাকিটা চালিয়ে নাও।’ এতটা ওয়েভলেংথ ম্যাচ করত আমাদের। ” বলতে বলতে খানিক থামলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। 

এরপর ফের বললেন, “ পিরিয়ড ড্রামা, ভক্তিমূলক লেখায় ওর হাত অসম্ভব খুলত। কী ধারালো!  ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু সবথেকে বেশি মিস করবে এই ধরনের এই বিষয়ের উপর শক্তিশালী সব লেখা। এটা বড় শূন্যস্থান!  আরঋতমের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা একপ্রকার পারিবারিক-ই হয়ে গিয়েছিল। বামাক্ষ্যাপা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আমাদের সম্পর্কটা কিন্তু ভালভাবেই টিকে গিয়েছিল। পারিবারিক হোক অথবা বৈষয়িক বিষয় -আমার পরামর্শ নিত ঋতম। আমিও যথাসাধ্য চেষ্টা করতাম। সুন্দর কথা বলত, কত কিছু নিয়ে আলোচনা করা যেত ওর সঙ্গে আর...আর ওই হাসিমুখটা বড্ড মনে পড়ছে। আর কী বলি বলুন...” 

আজকাল ডট ইন-এর কাছে নিজের মনখারাপের কথা খুলে বললেন অভিনেতা রোহিত মুখোপাধ্যায়ও। এইমুহূর্তে শুটিংয়েই আছেন তিনি। তার-ই ফাঁকে তিনি বললেন, " খুব হৃদয় বিদারক ঘটনা। মন খুব খারাপ হয়ে আছে। আচ্ছা, চলে যাওয়ার এটা কোনও বয়স হল, বলুন? ঋতমের শারীরিক অসুস্থতা ছিল কিন্তু তা তো বিরাট ভয়ঙ্কর কিছু না। আমাদেরও আছে। এই বয়সে পৌঁছলে যেরকম হয় আর কী। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়ে তেমন আলোচনা হয়নি সুতরাং জানবই বা কী করে...ইদানীং তেমন যোগাযোগ ছিল না। 

ঋতমের সঙ্গে আমার আলাপ কিন্তু বহু বছর আগেই। কম করে বছর পঁচিশ তো হবেই। আমি তখন সবে কাজ শুরু করেছে, ও করেছে। দূরদর্শনে 'ব্যোমকেশ বক্সী'-তেও চিত্রনাট্য লিখেছিল, আমিও অভিনয় করেছিলাম। তখন থেকেই আলাপ। আজকালকার চিত্রনাট্যকার, কাহিনীকারদের মতো ঋতমের কোনও সহকারী ছিল না। নিজের হাতেই লিখতে সব দৃশ্য। কাগজে লিখত, ফোনে নয়। সেটে বসে ওর সঙ্গে কত বিষয়ে আড্ডা যে হত, ভাবতে পারবেন না। খুব কন্সট্রাক্টিভ আলোচনা হত। দৃশ্য, চরিত্র নিয়ে অভিনেতাদের সঙ্গে কথা বলত ঋতম... আর তখন ফোনের দিকে তাকিয়ে আমরা বসে থাকতাম না। এইসব কথা বলছি আর ঋতমের মুখটা ভেসে উঠছে। মন খুব খারাপ হয়ে আছে।”