সেতারবাদক ঋষভ রিখিরাম শর্মা কোনওভাবেই পণ্ডিত রবিশঙ্করের 'শেষ শিষ্য' নন- আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানাল 'রবিশঙ্কর সেন্টার'। ২০১২ সাল থেকেই ঋষভকে নিয়ে বিতর্কের শুরু হয়েছিল৷ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে পাড়ি দেন রবিশঙ্কর৷ ওই বছরই ঋষভ রিখিরাম দাবি করেছিলেন তিনিই প্রয়াত কিংবদন্তী রবিশঙ্করের 'শেষ শিষ্য'।
গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি রবিশঙ্কর সেন্টারের তরফ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়, ঋষভের সাঙ্গীতিক দক্ষতা থাকলেও গুরু-শিষ্য পরম্পরায় যে নাড়া বাঁধা হয় সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাননি ঋষভ। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে নাড়া বাঁধার মধ্য দিয়েই গুরু-শিষ্য পরম্পরার সূত্রপাত হয়৷
সূত্রের খবর, ঋষভ রিখিরাম নিজেকে রবিশঙ্করের শেষ শিষ্য বলার পর থেকেই তিনি প্রচারের আলোয় আসেন৷ যদিও তাঁর বাজনা দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
রবিশঙ্কর সেন্টারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির আগে রবিশঙ্কর কন্যা সেতারবাদক অনুষ্কাশঙ্কর জানিয়েছিলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে শিষ্য শব্দটি গভীর তাৎপর্যবাহী৷ ঋষভ তাই কোনওভাবেই তাঁর বাবার 'শিষ্য' নন৷
প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুরু- শিষ্য সম্পর্ক তৈরি হয়৷ এই প্রথা দীর্ঘ দিনের৷ কিন্তু পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ কিংবা হাতে নাড়া বাঁধা - এসব কিছুই হয়নি ঋষভের৷ তাহলে কেন ঋষভ এমন দাবি করেন? একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, রবিশঙ্কর একটি অনুষ্ঠানে বলছেন, " এক দারুণ তরুণ ছাত্রের সঙ্গে আলাপ হয়েছে৷ ওঁর অনুরোধে কয়েকটি গৎ শিখিয়েছি। " রবিশঙ্করের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই রবিশঙ্কর সেন্টারের দাবি, 'ছাত্র' আর 'শিষ্য' এক নন৷
২০১২ সালের মার্চ মাসের পর থেকেই অসুস্থতার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন প্রয়াত সেতারবাদক রবিশঙ্কর৷ রবিশঙ্কর সেন্টারের এই দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক৷ সমাজমাধ্যমে ঋষভের অনুরাগীরা রবিশঙ্করের সঙ্গে ঋষভ রিখিরামের ছবি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনছেন৷
