জি বাংলায় খুব বেশিদিন শুরু হয়নি 'কমলা নিবাস'। এই ধারাবাহিকের প্রতিটা চরিত্রই দর্শকের মন কেড়েছে। তবে সবার মাঝে নজর কেড়েছে রাজুর চরিত্রটা। সে কমলা ও শ্রীনিবাসের পালিত সন্তান। এই চরিত্রে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা রাজদীপ সরকারকে। রাজদীপের এই চরিত্রের ডায়লগ নেই, শরীরের ভাবভঙ্গিই অভিনয়ের মূল চাবিকাঠি। কারণ, রাজু মূক, সে কথা বলতে পারে না। 

বাড়ির অনেকের চোখে সে অনাদরের। কিন্তু কমলা ও শ্রীনিবাসের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট। স্নেহ-ভালবাসায় রাজুকে বড় করেছে কমলা। মায়ের দুঃখ সহ্য করতে পারে না রাজু। নিজের মতো করে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নেয় সে। সম্প্রতি একটি পর্বে রাজু ও কমলার আবেগঘন মুহূর্ত দেখে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি দর্শক। সমাজমাধ্যমে রাজদীপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। 
ডায়লগ ছাড়া ধারাবাহিকে একটানা অভিনয় কতটা চ্যালেঞ্জিং রাজদীপের কাছে? আজকাল ডট ইন-কে অভিনেতা বলেন, "আমার কাছে যখন এই চরিত্রের সুযোগ আসে, আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।‌ আগে কখনও এমন অভিনয় করিনি। বারবার জানতে চেয়েছিলাম আমি পারব তো? ধারাবাহিকের কাস্টিং ডিরেক্টর মনে সাহস জোগান আমার। তারপর থেকে মনে মনে রাজু হয়ে ওঠার চেষ্টা করি।"

রাজদীপের কথায়, "চরিত্রের প্রয়োজনে কিছুটা ওজন কমাতে হত। মাত্র এক মাসের মধ্যে প্রায় ১৪ কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেছিলাম।‌ খুবই কঠিন ছিল সেই জার্নিটা। ক্যামেরার সামনে রাজুর লড়াই, রাজুর আবেগকে ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে অনেককিছু উপলব্ধি হয়েছে।‌ শুধুমাত্র ভাবভঙ্গি দিয়ে নিজের মনের ভাষা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে অসম্ভব খুশি। আমার সহ-অভিনেতারা পাশে না থাকলে চরিত্রটা এভাবে দর্শকের ভালবাসা পেত না। সোহিনী সেনগুপ্ত, দেবশঙ্কর হালদারের স্নেহে রাজদীপ যেন পর্দায় সত্যিকারের রাজু!"

অভিনেতা বলেন, "এতদিন নেতিবাচক চরিত্রে, ইতিবাচক চরিত্রে, ধূসর প্রকৃতির চরিত্রেও দর্শক দেখেছেন আমায়। কিন্তু এইরকম একজন সহজ-সরল মানুষের চরিত্রে প্রথমবার দেখছেন দর্শক। আমার অভিনয় দেখে সমাজমাধ্যমে অনেকেই অনেক ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। এই পাওয়াটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। এত বছর অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার শ্রেষ্ঠ পাওয়া এই চরিত্রটা। আগামীদিনে কমলা নিবাসে আরও জোরালো হবে রাজুর চরিত্র। এই ধারাবাহিকের গল্পটাই বড্ড সুন্দর, ছাপোষা। দর্শকের সঙ্গে আমিও অপেক্ষায় থাকি এর নতুন মোড়ের জন্য।"