গরমের দিনে দুপুরের ভাতের সঙ্গে টক স্বাদের হালকা কোনও পদ খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। আর বাঙালির রান্নাঘরে কাঁচা আম দিয়ে মাছের টক একটি খুবই জনপ্রিয় পদ।
2
10
এই রান্নায় কাঁচা আমের টক, মাছের নরম স্বাদ আর হালকা মশলার সুন্দর মেলবন্ধন থাকে। বিশেষ করে গরমের সময় এই পদ খেতে যেমন সুস্বাদু লাগে, তেমনই শরীরও থাকে বেশ হালকা।
3
10
এই রান্নার জন্য সাধারণত রুই, কাতলা, পারশে বা পুঁটি মাছ ব্যবহার করা হয়। প্রথমে মাছ ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর মাছের টুকরোগুলিতে লবণ ও হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। এতে মাছের কাঁচা গন্ধ কমে যায় এবং স্বাদও ভাল হয়।
4
10
এদিকে ১-২টি কাঁচা আম ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে লম্বা ফালি করে কেটে রাখতে হবে। কেউ কেউ ছোট টুকরো করেও ব্যবহার করেন। কাঁচা আম এই রান্নার আসল স্বাদ এনে দেয়, তাই টক ভাল এমন আম বেছে নেওয়াই ভাল।
5
10
এরপর কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করতে হবে। তেল ভালভাবে গরম হলে মাছগুলো হালকা লাল করে ভেজে তুলে রাখতে হবে। খুব বেশি ভাজার দরকার নেই, তাহলে মাছ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
6
10
একই কড়াইয়ে আবার সামান্য তেল দিয়ে পাঁচফোড়ন, শুকনো লঙ্কা এবং কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিতে হবে। ফোড়নের সুন্দর গন্ধ বের হলে কেটে রাখা কাঁচা আম দিয়ে হালকা নেড়ে নিতে হবে। তারপর সামান্য হলুদ, লবণ এবং চাইলে অল্প সর্ষে বাটা মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে স্বাদ আরও বাড়ে।
7
10
এবার পরিমাণমতো জল ঢেলে পাতলা ঝোল তৈরি করতে হবে। এই রান্না সাধারণত পাতলা টকের ঝোল হিসেবেই ভাল লাগে। আম একটু নরম হয়ে এলে আগে ভেজে রাখা মাছগুলো ঝোলে দিয়ে দিতে হবে।
8
10
এরপর অল্প চিনি দিতে হবে। চিনি খুব বেশি নয়, শুধু টক আর ঝালের স্বাদ ভারসাম্য করার জন্য। ঢেকে ৫-৭ মিনিট ফুটতে দিন যাতে মাছ ও আমের স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়।
9
10
সবশেষে ওপরে কাঁচা লঙ্কা ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। চাইলে সামান্য ভাজা মেথি গুঁড়োও ছড়ানো যায়, এতে আলাদা সুন্দর গন্ধ আসে।
10
10
গরম ভাতের সঙ্গে এই আম দিয়ে মাছের টক খেতে অসাধারণ লাগে। গরমের ক্লান্ত দুপুরে এই হালকা টক ঝোল খেলে মনও ভাল হয়ে যায়।