কোনও কাছের মানুষের কাছ থেকে সমালোচনা সহ্য করা যে কোনও অভিনেতার জন্যই বেশ কঠিন। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিও এর ব্যতিক্রম নন। অভিনেতার ক্ষেত্রে এই সমালোচক হলেন তাঁর নিজের মেয়ে। পর্দায় তাঁকে নাচতে দেখলেই রেগে যান শোরা।

এক সাক্ষাৎকারে নওয়াজ জানিয়েছিলেন যে, অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করা সত্ত্বেও একটা বিশেষ বিষয়ে তিনি সবসময় মেয়ের কাছে বকা খান, আর সেটি হল তাঁর নাচ। অভিনেতার কথায়, “সব মেয়েরাই তাদের বাবার সঙ্গে খুব সোজাসাপ্টা কথা বলে। শোরা আমার খুব বেশি সিনেমা দেখেনি। হয়তো গোপনে ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ দেখে থাকতে পারে। কিন্তু ও সবসময় আমার নাচের সমালোচনা করে।”

নওয়াজ বলেন, “ও আমাকে নাচতে বারণ করে। আমি সত্যিই একজন খারাপ নৃত্যশিল্পী। সে আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। নাচ নিয়ে আমি এখন খুব হীনম্মন্যতায় ভুগি। তবে আমি আবার চেষ্টা করব। সবকিছু যে নিখুঁত হতে হবে এমন কোনও মানে নেই। আসল কিছু মানুষ শুধু আনন্দ পাওয়ার জন্য নাচ করে।”

মেয়ের এই সমালোচনা অভিনেতাকে এতটাই প্রভাবিত করেছে যে, নাচ নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস এখন টলমলে। নাচের পাশাপাশি নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি বলিউডে গায়ের রঙের ভিত্তিতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রতি বৈষম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন। 

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, সৌন্দর্যের মাপকাঠি আপনার নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়; বরং মানুষকেই সেটা ঠিক করতে দেওয়া উচিত।” বলিউডে অভিনেত্রীদের গায়ের রং দিয়ে প্রতিভা বিচার করার প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, “মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে। কিন্তু সেটাকে সিস্টেম বা কাঠামোর মধ্যে ঢুকিয়ে দেবেন না। গায়ের রঙ এমন হলে সে লিড রোল বা কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে পারবে না—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। অবশ্য এর জন্য শুধু মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, কারণ গল্পগুলোই ওভাবে লেখা হয়। একজন ফর্সা মেয়েকে কেন্দ্র করেই স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়। আমাদের কাছে ব্রিফিং-ও সেভাবেই আসে। অনেক মানুষ এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে।”