৪ মে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের মসনদে কে বসবে, কোন দলের শাসন কায়েম হবে বাংলায় সেটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর তারপর যেখানে টলিউডের শিল্পীরা নবনির্বাচিত সরকারকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত, সেখানে ইঙ্গিতবহ বার্তা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। কী লিখলেন? 

রাজ্যে ভোট গণনা শেষ হতেই এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ— দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।' 

টলিউডের 'জ্যেষ্ঠ পুত্র' এদিন আরও লেখেন, 'আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেই টুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই।' (পোস্টদাতার বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হল)

কেন এমন লিখেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? শিবপুরে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবারের বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন তিনি। তারপরই সেই সুখবর নিজেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেন রুদ্রনীল। কথা হয় দুজনের। এরপরই সেই কথা প্রকাশ্যে আসতে, অনেকেই মনে করতে থাকেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বুঝি এবার রাজনীতিতে নাম লেখাবেন। পদ্মশিবিরে যোগ দেবেন তিনি। সেই ভাবনাকে নস্যাৎ করতে এই পোস্ট 'ইন্ডাস্ট্রি'র।

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, নির্বাচনের আগে জল্পনা শুরু হয়, প্রসেনজিৎ-পুত্র তৃষাণজিৎ গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন কিনা সেটা নিয়ে। সেই সময় কয়েকদিন থেকেই নেটপাড়া থেকে অনুরাগীমহল সরগরম ছিল এ জল্পনায়। গুঞ্জনের সূত্রপাত ফেসবুকের একটি পোস্ট। তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকেই করা হয়েছিল তা। পোস্টে দেখা গিয়েছিল, বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে রাম নাম করেছেন তিনি! এরপরেই শুরু হয় ফিসফাস। প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাসভবন ‘উৎসব’-এ গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। জল্পনা রটতেই এই ব্যাপারেই মুখ খুলেছিলেন খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তৃষাণজিতের সমাজমাধ্যমে আবার কে দেখভাল করবে? ও নিজেই করে। তবে ফেসবুকের যে প্রোফাইল থেকে ওই পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি তৃষাণজিতের নয়! ওটা ওর নামের একটা ফেক প্রোফাইল! আর আজকাল দিব্যি বোঝা যায় কোন ছবি জাল ছবি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে এই ছবিটি তৈরি' করা হয়েছে। আর সত্যি কথা বলতে কী, আমার হাসি-ই পাচ্ছে এসব বলতে।অদ্ভুত লাগছে ২০ বছরের একটি ছেলের ছবি নিয়েও ফেক পোস্ট করা হচ্ছে...আর শুধু তাই নয়, এই ব্যাপারটার সঙ্গে আমাকেও জুড়ে দেওয়া হল! ওই ফেক প্রোফাইল থেকে কী করে জানেন তো? ধরুন, আমি কোনও পোস্ট করলাম অথবা কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর সঙ্গে ছবি দিলাম...এরপর সেই ছবিটাকেই ধরে ওর পাশে এদিক ওদিক মিশুককে বসিয়ে একটা ছবি তৈরি করে পোস্ট করে দিল!” 'বুম্বাদা'র ছেলে এই বছর প্রথম ভোট দিলেন।