শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীতে রচিত হল এক নতুন ইতিহাস। ব্রিগেডে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার ইতিহাসে এই প্রথমবার ক্ষমতায় গেরুয়া শিবির। এই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে এক জনসভার আয়োজন করে ভারতীয় জনতা পার্টি। এরাজ্যে গৈরিকীকরণের সাক্ষী থাকলেন টলিউডের বহু শিল্পীও। পদ্ম পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলার সমস্ত শিল্পীদের কাছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। সেই সম্ভাব্য তালিকায় ছিলেন মমতা শঙ্কর, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। এদিন বিগ্রেডে উপস্থিত ছিলেন দু'জনেই।  

আজকাল ডট ইন-কে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী বলেন, "ওখানে তো মমতা শঙ্কর, বুম্বা (প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি), যিশু (যিশু সেনগুপ্ত) আমরা একসঙ্গে ছিলাম।"

নতুন সরকার নিয়ে তিনি আরও বলেন, "কিছু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ যেন ভারতের ম্যাপের বাইরে হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই বাংলাকে নিয়ে টিটিকিরি দিত, কটূ কথা বলত। এটা খুবই কষ্টের। সেটা বোধহয় আর করবে না। যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন, ওঁর শপথগ্রহণের সময়ও আমি ছিলাম। সেই সময় অনেক উন্নতি হয়েছিল। এরপর ৩৪ বছর পর যখন মমতা ব্যানার্জি শাসনে এলেন তখন প্রথমদিকে খুব ভাল লেগেছিল। ভেবেছিলাম নতুন কিছু হবে। উনি খুব ভালভাবে শুরুটা করেছিলেন। সংস্কৃতিতে সম্মান করতেন, শিল্পীদের সম্মান দিতেন। তারপর আস্তে আস্তে ভাল না লাগার অনেক কারণ দেখতে পেলাম। তখন খুবই কষ্ট পেতাম। কয়েকদিন ধরে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আর কিছু বলার ছিল না। আশা করব, বাংলা দেশের রাজধানী ছিল, সেই ঐতিহ্য, মূল্যবোধ থাকবে। বিজেপির রাজনীতির জন্ম হয়েছে কলকাতায়, সেই মর্যাদা ধরে রাখতে যেন পারে।"

তিনি আরও বলেন, "ভারতবর্ষের উন্নতিতে মোদীজির যথেষ্ট অবদান আছে৷ বিজেপির জন্ম হয়েছে বাংলায়৷ জন্মস্থলেই ক্ষমতায় এল৷ আশা রাখি ভাল কিছুই হবে৷ শিল্প সাহিত্য সঙ্গীতে বাংলা বরাবর কালচারাল ক্যাপিটাল ছিল৷ শিল্প সংস্কৃতির সেই গৌরব ফেরাতে আমি চাই৷ আমি সঙ্গীতের মানুষ৷ রাগ সঙ্গীত মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে চাই৷ সরকার সেই বিষয় সহযোগিতা করবেন বলেই আমি আশা রাখি।"

প্রসঙ্গত, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন অভিনেতা জিৎ। এদিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন তিনি। সঙ্গে দেখা যায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্তকেও। এছাড়াও সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋষি কৌশিক সহ টেলিভিশনের বেশ কয়েকজন তারকাকেও উপস্থিতি নজরে আসে। 

অন্যদিকে, টলিপাড়া থেকে বিজেপির নব নির্বাচিত বিধায়ক অর্থাৎ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায় ছিলেন নবমুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। শুরু থেকেই অনুষ্ঠানের তদরকিতে ছিলেন সাংসদ তথা অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।