'পঞ্চায়েত' ওয়েব সিরিজে ‘নতুন সচিব’-এর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী। পর্দায় তাঁর অভিনয় যতটা সহজ ও সাবলীল, বাস্তব জীবনে তাঁর পথচলা ততটাই কঠিন এবং হৃদয়বিদারক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা মুখ খুলেছেন তাঁর শৈশবের সেই অন্ধকার দিনগুলো নিয়ে। কর্ণাটকের গ্রামে বেড়ে ওঠা বিনোদ তুলে ধরেছেন জাতপাতের ভেদাভেদ এবং চরম দারিদ্র্যের এমন কিছু করুণ চিত্র, যা শুনলে যেকোনও মানুষের চোখ ভিজে আসবে।
গ্ল্যামারের ঝলকানি আর সাফল্যের আলোর আড়ালে অনেক সময় ঢাকা পড়ে যায় জীবনের কঠিন বাস্তব। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কান্নানের পডকাস্টে এসে নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী। কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা বিনোদের কাছে শৈশব মানেই ছিল বঞ্চনা আর অপমানের দগদগে ক্ষত।
সাক্ষাৎকারে বিনোদ জানান, আজও তাঁর গ্রামের অবস্থা বদলায়নি। সেখানে জাতপাতের ভেদাভেদ সোচ্চারে প্রকট। অভিনেতা বলেন, “আমার গ্রামে আজও জাতপাতের ভেদাভেদ আছে। গ্রামের মানুষের বসবাসের জায়গা দুই ভাগে বিভক্ত—একটি উচ্চবর্ণের জন্য এবং অন্যটি নিম্নবর্ণের জন্য। দলিতদের জন্য আলাদা এলাকা নির্ধারিত। ১২ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে একবার গ্রামে গিয়ে হোটেলে খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে খাবার খাওয়ার পর আমাদের নিজেদের থালা নিজেদেরই ধুতে হয়েছিল এবং তার জন্য পয়সাও দিতে হয়েছিল। গ্রামে এমন মন্দিরও আছে, যেখানে আমাদের প্রবেশের অনুমতি নেই।”
দারিদ্র্য এতটাই তীব্র ছিল যে, উৎসবের দিনগুলো আনন্দের বদলে বিনোদের পরিবারের কাছে আসত দুঃস্বপ্ন হয়ে। বিনোদ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “আমি প্রায়ই আমার বাবা-মাকে কাঁদতে দেখেছি। উৎসবের মরসুম এলে আমি ভাবতাম কেনই বা উৎসব আসে! কারণ, অন্যরা যেভাবে আনন্দ করে, আমরা তা করতে পারতাম না। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কেউ কিছু দিলে তবেই আমরা উৎসব পালন করতে পারতাম—এটাই ছিল আমাদের বাস্তব।”
অভিনয় জগতে নিজের জায়গা করে নেওয়ার আগে বিনোদকে করতে হয়েছে নানা ধরনের অদ্ভুত সব কাজ। একসময় নিরাপত্তারক্ষী বা ওয়াচম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বিনোদ জানান, কঠোর পরিশ্রম করতে গিয়ে তাঁর পায়ে ফোসকা পড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “সমাজ মানুষকে কাজের নিরিখে বিচার করে। মানুষ মনে করে, কাজ যত বড়, সম্মান তত বেশি।”
ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় দিয়ে শুরু করা বিনোদ অবশেষে ২০২৪ সালে ‘পঞ্চায়েত’ সিরিজে ‘নতুন সচিব’-এর চরিত্রে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। একই বছরে নেটফ্লিক্সের ‘ইয়ে কালি কালি আঁখে’-তে পুলিশের চরিত্রে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়। পরবর্তীতে ‘জলি এলএলবি ৩’ এবং ‘থাম্মা’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ ছবিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। আজ সাফল্যের শিখরে দাঁড়িয়েও সেই কষ্টের দিনগুলোকে ভোলেননি বিনোদ, বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আজ লড়াই করতে শিখিয়েছে।















