অন্যতম জনপ্রিয় ব্রিটিশ রিয়্যালিটি শো 'দ্য এক্স ফ্যাক্টর' -এর অনুকরণে ডেনমার্কে শুরু হয় 'এক্স ফ্যাক্টর'। এই দেশের সব থেকে বড় রিয়্যালিটি শো এটি। আর সেখানেই তার সিজন ১৯ -এর বিজয়ীর খেতাব উঠল এক ভারতীয়ের হাতে। 'এক্স ফ্যাক্টর' -এর ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও ভারতীয় বিজয়ী হলেন। বছর ১৬ এর হুগো আলমেডা এবারের বিজয়ী হয়েছেন। তারপরই আজকাল ডট ইনকে সুদূর ডেনমার্ক থেকেই জানালেন তাঁর অভিজ্ঞতা। 

'এক্স ফ্যাক্টর' -এর মতো শো জেতার পর হুগো বলেন, "আমি আনন্দে ডগমগ করছি। আমার বাবা মা, বিচারক, আমার টিম- সকলের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমি খুব খুশি। অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা হল।" সকলকে পিছনে ফেলে বিজয়ীর ট্রফি তাঁর হাতে। কিন্তু এই গান শেখার আরম্ভ কবে? এই বিষয়ে তিনি বলেন, "আমি গানের প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেছি ডেনমার্কে আসার পরই। যদিও আমার বরাবরই গানের প্রতি আগ্রহ ছিল। বহু মানুষের সামনে গান গাওয়ারও আগ্রহ ছিল, ভালও লাগে। সেই থেকেই আমি পুরোদমে শিল্পী হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে থাকি। নিজের সবটুকু নিংড়ে দিই। শিখি। পারফর্ম করি।" আর অনুপ্রেরণা? কাকে দেখে শিল্পী হওয়ার, মঞ্চে পারফর্ম করার তাগিদ পেলেন? "আমি বহু কিছুর থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমার মা, বাবা দু'জনেই গান গাইতে পারেন। বাড়িতে বরাবরই গানের চর্চা আছে, গান শোনা হয়। গজল থেকে পপ, রক, হিন্দুস্তানি সহ বিভিন্ন ধরণের গান শুনি। শুনতে ভাল লাগলে, সেই গান শুনি। বহু শিল্পীর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ফলে একজনের নাম করা ঠিক হবে না। তাও একান্ত বলতে হলে মাইকেল জ্যাকসন, দ্য উইকেন্ডের নাম করব। ওদের সঙ্গীতায়োজন, গানের ধরন, কথা, আমায় মুগ্ধ করেছে", জানালেন হুগো। 

যে গান গেয়ে বিজয়ীর ট্রফি পেলেন সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে হুগো বলেন, "গোল্ডেন ২৪ গেয়ে আমি বিজয়ী হই। গানটি অসম্ভব সুন্দর। একজন মানুষের কাছে যদি কেবল ২৪ ঘণ্টা থাকে বেঁচে থাকার জন্য সে কীভাবে উপভোগ করবে সেটা নিয়েই গানটি।" 

ম্যাঙ্গালোরে তাঁর শিকড় থাকলেও কখনও দুবাই, কখনও ডেনমার্কে থেকেছেন, বড় হয়ে উঠেছেন। নিজের দেশকে চেনেন, এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে আলাপ আছে কিনা জানতে চাইলে হুগোর অকপট উত্তর, "ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আমি পরিচিত। একজন ভারতীয় যা যা জিনিস দেখে, শিখে বড় হয় আমিও তাই হয়েছি। খাবার থেকে পোশাক, সিনেমা, শিক্ষা, নীতিবোধ সবটাই দেশের থেকেই শিখেছি। পরিচিত। আমি আমার দেশকে ভীষণ ভালবাসি।" 

আগামীতে গান নিয়েই এগোনোর ইচ্ছে হুগোর। তাঁর কথায়, "এই সাফল্য, এই জয়কে আমি আমার সম্পূর্ণটা দিয়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব, যাতে আমি আমার সঙ্গীতের কেরিয়ারে আরও এগিয়ে যেতে পারি। আমি গান লিখতে চাই, বানাতে চাই। নিজের সম্পূর্ণ সময়টা সঙ্গীত ইন্ডাস্ট্রিকেই দিতে চাই।"

প্রসঙ্গত এবারের সিজনের বিচারক ছিলেন থমাস ব্ল্যাচম্যান। হুগোর মেন্টর হিসেবে ছিলেন বেঞ্জামিন হ্যাভ। মারিয়া ফ্যান্টিনো 'এক্স ফ্যাক্টর' সিজন ১৯ -এর শোয়ের সঞ্চালনা করেন এই বছর।