২০২৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে মার্ভেল স্টুডিয়োজের বহু প্রতীক্ষিত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’। মুক্তি এখনও অনেক দূরে, কিন্তু তার আগেই দর্শকের উত্তেজনার পারদ চড়াতে একেবারেই সময় নষ্ট করছে না মার্ভেল। বছরের শেষ ভাগ জুড়ে একের পর এক রহস্যময় ইঙ্গিত আর টিজার ছড়িয়ে দিয়ে তারা স্পষ্ট করে দিচ্ছে ‘ডুমসডে’ আসছে, আর সেই আগমন হবে বিধ্বংসী।

নতুন ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ ছবিটি যেন মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের (MCU) প্রায় সব পরিচিত নায়ক-খলনায়কের মহাসমাবেশ। গত এক মাসে, উৎসবের মরসুম জুড়ে, মার্ভেল এনটারটেইনমেন্ট প্রকাশ করেছে চারটি ছোট কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ ‘ডুমসডে’ ক্লু। এই ভিডিওগুলিতে ভবিষ্যতের সেই মহাযুদ্ধের আভাস মিলেছে, যেখানে দেখা যাবে স্টিভ রজার্স, থর, প্রফেসর এক্স, ম্যাগনেটো, সাইক্লপস, শুরি, নেমর এবং দ্য থিং-এর মতো চরিত্রদের।
সবক’টি টিজারের মুডই অস্বস্তিকরভাবে গম্ভীর। সূর্যাস্তে রাঙা আকাশের ওপারেই যেন লুকিয়ে আছে ভয়ংকর কোনও সর্বনাশ - ডক্টর ডুম! স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এক চূড়ান্ত সংঘর্ষ অনিবার্য। মার্ভেলের এই স্টাইলাইজড কিন্তু কার্যকর প্রচার কৌশল ইতিমধ্যেই এমন এক আবহ তৈরি করেছে, যা ‘ডুমসডে’কে আগামী বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবিগুলির তালিকায় প্রথম সারিতে এনে ফেলেছে। যদিও লড়াই এখনও অনেক দূর।
স্টিভ রজার্সের প্রত্যাবর্তন
‘ডুমসডে’র প্রথম টিজারে দেখা যায়, ক্রিস ইভান্সের স্টিভ রজার্স তাঁর ট্রায়াম্ফ মোটরসাইকেল থামিয়ে একটি নিরিবিলি ফার্মহাউসে ঢুকছেন। সেখানে তিনি আবার তুলে নিচ্ছেন ক্যাপ্টেন আমেরিকার পোশাক। এর পরই দৃশ্য বদলায় -একটি শিশুকে কোলে নিয়ে স্নিগ্ধ অথচ গর্বিত হাসিতে ভরে ওঠে তাঁর মুখ। নীরব, অথচ গভীর ইঙ্গিত।
থরের প্রত্যাবর্তন
পরের টিজারে, দাড়িতে বয়সের ছাপ, ক্লান্ত কিন্তু দৃঢ় ক্রিস হেমসওয়ার্থকে দেখা যায় বনানীর মধ্যে হাঁটু গেড়ে বসে প্রার্থনায় মগ্ন। বাবা এবং পিতৃপুরুষদের কাছে শক্তি চাইছেন বজ্রদেব। এর মাঝেই এক ঝলকে দেখা যায় তাঁর দত্তক কন্যা লভ-কে।
এক্স-মেনের কামব্যাক
তৃতীয় টিজারে প্রফেসর এক্স ও ম্যাগনেটো হিসেবে প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট এবং ইয়ান ম্যাকেলেন শেষবারের মতো তাঁদের একসঙ্গে দেখার আবেগ আলাদা করেই বলার মতো। আর সেই আবেগের চূড়ান্ত মুহূর্ত আসে, যখন জেমস মার্সডেন সাইক্লপসের গগলস খুলে উন্মুক্ত করেন চোখ থেকে বেরিয়ে আসা লালচে-কমলা বিদ্যুতের বিস্ফোরণ।
ওয়াকান্ডা ও ফ্যান্টাস্টিক ফোর
চতুর্থ ও সর্বশেষ টিজারে দেখা যায় লেটিশিয়া রাইটের শুরি, উইনস্টন ডিউকের এম’বাকু, নতুন পোশাকে টেনক হুয়ের্তার নেমর ও তাঁর তালোকান বাহিনী, সঙ্গে এবন মস-ব্যাকরাকের দ্য থিং সবাই একত্রিত ওয়াকান্ডায়। যুদ্ধের আগে যেন এক মুহূর্তের স্থিরতা।
তবে সাবধান, পরিচালক জো ও অ্যান্থনি রুসো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এগুলো আদতে টিজার বা ট্রেলার নয়। এগুলো হল গল্পের দিকনির্দেশক রহস্যময় সংকেত। অর্থাৎ, প্রতিটি ফ্রেম খুঁটিয়ে দেখার দায়িত্ব দর্শকের। আগামী সপ্তাহ ও মাস জুড়ে এমন আরও ‘টিজার নয় ক্লু’ আসবে বলেই ইঙ্গিত। ততদিনে চাইলে এখনই শুরু করে দিতে পারেন মার্ভেলের সব ছবি আবার দেখে ফেলতে পারেন।
মার্ভেল স্টুডিয়োজের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ মুক্তি পাচ্ছে চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর।
