ছোটপর্দার দর্শকের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিকের নাম ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বিভূতি নারায়ণ মিশ্র আর মনমোহন তিওয়ারির খুনসুটি দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরেছে আপামর দর্শকের। তবে এবার শুধু টেলিভিশনেই আটকে থাকছে না এই কমেডি শো, বরং সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে সিনেমা হলের বড়পর্দায়। দর্শকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার বড়পর্দায় সিনেমা হিসেবে আসছে এই মেগা সিরিয়ালটি। ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায় – ফান অন দ্য রান’। 

 

চলতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবিটি। সম্প্রতি এই খবরের কথা ঘোষণা করেছেন নির্মাতারা। সবচেয়ে খুশির খবর হল, সিনেমার পর্দাতেও দর্শকের প্রিয় মুখগুলোকেই দেখা যাবে। 'বিভূতি নারায়ণ মিশ্র'-এর চরিত্রে থাকছেন আসিফ শেখ, 'মনমোহন তিওয়ারি'র চরিত্রে রোহিতাশ্ব গৌর এবং 'অঙ্গুরি ভাবি'র চরিত্রে দেখা যাবে শুভাঙ্গী আত্রেকে। শুধু তাই নয়, সিনেমার চমক বাড়াতে ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রবি কিষাণ, মুকেশ তিওয়ারির মতো অভিনেতারাও।


ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে এসে শুটিং ফ্লোরের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন আসিফ শেখ।‌ তিনি জানান শুটিং সেটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন, যা তাঁর প্রাণ কেড়ে নিতে পারত। ১৩ ফুট উচ্চতার একটি আস্ত গাছ হঠাৎই ভেঙে পড়েছিল তাঁর ওপর।

 

আসিফ জানান, সেই দিনটিতে একটি আউটডোর দৃশ্যের শুটিং চলছিল। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালে তা মুহূর্তের মধ্যে বিভীষিকায় পরিণত হয়। অভিনেতা যখন নিজের সংলাপ বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই বিশালাকার গাছটি গোড়া থেকে উপড়ে আসে। আসিফ শেখের কথায়, "সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল যে সরে যাওয়ার মতো সময়টুকুও ছিল না। আমি শুধু দেখলাম একটা বিশাল কিছু যেন আমার ওপর আছড়ে পড়ছে।"


গাছটি সরাসরি তাঁর পিঠের ওপর পড়েছিল। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে উপস্থিত কলাকুশলীরা ভেবেছিলেন বড় কোনও অঘটন ঘটে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে শুটিং বন্ধ করে তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, আসিফ অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন। যদি গাছটি কয়েক ইঞ্চি সরে তাঁর মাথায় বা ঘাড়ে লাগত, তবে তা প্রাণঘাতী হতে পারত। মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট পেলেও কোনও হাড় ভাঙেনি, যা সত্যিই আশ্চর্যের।

 

এই ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল অভিনেতাকে। তবে কাজ পাগল আসিফ বেশিদিন বিশ্রাম নিতে পারেননি। যন্ত্রণার মাঝেই তিনি সেটে ফিরে আসেন। তিনি মনে করেন, মানুষের ভালবাসা এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদই তাঁকে সে যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছে।