হিন্দি সিনেমা যখন স্মৃতির কুয়াশামাখা অলিগলি ধরে নরম পায়ে ফিরে তাকাচ্ছে, তখনই নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে ফের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শক্তি সামন্তের সৃষ্টি করা সুর, গল্প আর আবেগ। এক সময়ের গান, তারকা আর সিনেমার মুহূর্তগুলো যেন ফের এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে, কিংবদন্তি এই নির্মাতার পুনরুদ্ধার করা ক্লাসিক ছবিগুলি স্ট্রিমিংয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য। যে পরিচালক দশক পেরিয়েও আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

 

 

 

এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদ্‌যাপন করতে সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্ম আল্ট্রা প্লে ওটিটি বেছে নিয়েছে এক বিশেষ আয়োজন। শক্তি সামন্ত পরিচালিত ও প্রযোজিত ৩২টি ডিজিটালি রিস্টোর করা হিন্দি ছবির এক ঝাঁক নিয়ে তৈরি হয়েছে এই প্রদর্শনী। তালিকায় রয়েছে ‘হাওড়া ব্রিজ’ (১৯৫৮), ‘কাশ্মীর কি কলি’ (১৯৬৪), ‘আরাধনা’ (১৯৬৯), ‘কাটি পতঙ্গ’ (১৯৭১)-এর মতো কালজয়ী ছবি, যেগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হিন্দি সিনেমার স্বাদ আর সংজ্ঞা গড়ে দিয়েছে।

 

 

মুক্তির অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পরে ‘অমর প্রেম’ (১৯৭২) আর তার অমর গান ‘কুছ তো লগ কহেঙ্গে, লগোঁ কা কাম হ্যায় কহনা’ আজও দর্শকের মনে একই রকম দাগ কাটে। ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শর্মিলা ঠাকুর একে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “আমি মনে করি ‘অমর প্রেম’-ই আমার সেরা হিন্দি পারফরম্যান্স” হাসতে হাসতে যোগ করেন, ছবিতে নাকি তাঁকে “খুব ভাল-ও দেখতে লেগেছিল”।

 

শক্তি সামন্তের কাজের ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শর্মিলা বলেন, “ওঁর ছবিগুলোর বারবার দেখার মতো একটা আলাদা মূল্য ছিল, আর গানগুলো তো আজও বেঁচে আছে। সঙ্গীত ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি, কিন্তু একই সঙ্গে ছবিগুলোতে ছিল সামাজিক বার্তা, আর নারী চরিত্রগুলো ছিল দৃঢ়। তাদের বলার মতো অনেক কিছু থাকত।”

 

শুটিং ফ্লোরে তাঁর পরিচালনার দক্ষতা আজও স্মরণীয়। শর্মিলার কথায়, “শক্তিদা খুব কম কথা বলতেন। সবসময় ভীষণ প্রস্তুত থাকতেন এবং সময়ের দারুণ মূল্য দিতেন। সময়ের চাপ থাকায় ‘আরাধনা’ ছবির ‘রূপ তেরা মস্তানা’ গানটা তিনি একেবারে ব্যাকগ্রাউন্ড সং হিসেবে, কোনও রিহার্সাল বা লিপ-সিঙ্ক ছাড়াই, এক শটেই শুট করেছিলেন।”

 

শক্তি সামন্তের সিনেমা তাই শুধু নস্টালজিয়া নয়, আজও তারা প্রমাণ করে, ভাল গল্প, মন ভোলানো সুর আর সংবেদনশীল নির্মাণশৈলী সময়ের সীমানা মানে না।