বলিউডে এমন কিছু পরিচালক-প্রযোজক আছেন, যাঁদের নাম দেখলেই দর্শক ধরে নেন, ছবিটা অন্তত দেখার মতো হবেই। বিধু বিনোদ চোপড়া ঠিক সেই গোত্রের মানুষ। ‘পরিণীতা’, ‘মুন্নাভাই’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ থেকে সাম্প্রতিক ‘টুয়েলভথ ফেল’ -এর মতো সব ছবির মাধ্যমে বারবার বিধু বিনোদ চোপড়া প্রমাণ করেছেন পর্দায় গল্প বলার তাঁর নিজস্ব ভাষা আছে। কিন্তু জানেন কি, এই বিধু বিনোদ চোপড়াই এক সময় অমিতাভ বচ্চনকে উপহার দিয়েছিলেন প্রায় ৪ কোটি টাকার এক বিলাসবহুল রোলস-রয়েস ফ্যান্টম? এবং তা শুনে বিরক্ত হয়ে কী করেছিলেন এই ছবি নির্মাতার মা?
ঘটনাটা ২০০৭ সালের ছবি ‘একলব্য’-কে ঘিরে। এক সাক্ষাৎকারে বিধু বিনোদ চোপড়া নিজেই জানান, এই ছবির শুটিং চলাকালীন অমিতাভ বচ্চন যে ধৈর্য ধরেছিলেন এবং কোনও অভিযোগ না করে ছবিটা শেষ করেছিলেন, তারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি বিগ বি-কে রোলস-রয়েস উপহার দেন। বিধুর কথা থেকেই জানা যায়, ৩৫ দিনের শুটিংয়ে একটি হালকা ব্যাগ নিয়ে এসেছিলেন অমিতাভ, যেখানে মাত্র একটা ব্যাগ ছিল তাঁর সঙ্গে। তা-ও খুব বেশি ভারী নয়। দেখে যারপরনাই অবাক হয়েছিলেন বিধু। অমিতাভকে জিজ্ঞেসও করে ফেলেছিলেন যে কেন এত অল্প জিনিসপত্র নিয়ে এত দিনের টানা শুটিংয়ে এসেছেন তিনি? জবাবে হালকা হেসে অমিতাভের জবাব ছিল, " জয়া আমাকে বলেছে যে, 'তুমি বিধুকে ১০ দিনের বেশি সহ্য করতে পারবে না। শুটিং ছেড়ে চলে আসতে হবে তারপর। অগত্যা সেরকম প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। তাই এত হালকা ওজনের ব্যাগ..."
এরপর পরিচালকের দাবি, সেই সময় একলব্য ছবির বাজেট এতটাই টানাটানি ছিল যে অমিতাভ বচ্চনের থাকা-খাওয়া বা ফ্লাইটের খরচ বহন করার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। তাই তিনি স্পষ্টভাবেই বিগ বি-কে জানিয়েছিলেন, হোটেলের ঘর আর বিমানযাত্রার খরচ তাঁকেই দিতে হবে। বিধুর কথায়, যদি অমিতাভের খরচ তিনি দিতেন, তাহলে একই দাবি আসত সইফ আলি খান ও সঞ্জয় দত্তের তরফ থেকেও, যা ছবির বাজেট পুরোপুরি ভেঙে দিত।
তবু কোনও অভিযোগ না করে অমিতাভ পুরো ছবিটা করেছিলেন। আর সেই সহযোগিতার পুরস্কার হিসেবে, পরে যখন ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়, তখনই বিধু বিনোদ চোপড়া তাঁকে উপহার দেন প্রায় ৪ কোটি টাকার রোলস-রয়েস গাড়ি। বিধু আরও বললেন, “আমি ওঁকে নিজের ঘরের ভাড়া দিতে বলেছিলাম, নিজের বিমান ভাড়ার টাকাও দিতে হয়েছিল। আর তারপর যখন ঈশ্বরের কৃপায় পকেটে বেশ টাকা এল, তখন আমরা ওঁর খুব খেয়াল রেখেছি।”

এই উপহার দেওয়ার ঘটনাতেই রয়েছে আরও এক চমকপ্রদ অজানা গল্প। বিধু জানান, এই সিদ্ধান্তে তাঁর মা মোটেও খুশি হননি। বরং তাঁকে ‘বোকা’ বলে সপাটে চড় কষিয়েছিলেন! সেই দিনের কথা আজও ভুলতে পারেন না পরিচালক। বিধু বলেন, অমিতাভকে গাড়ির চাবি তুলে দেওয়ার সময় তিনি তাঁর মাকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। চাবি তুলে দিয়ে ফিরে এসে তাঁর মা নীল রঙের এক মারুতি ভ্যানে বসেন, যেটা তখন বিধু নিজেই চালাতেন, কারণ তাঁর কোনও ড্রাইভারও ছিল না। মজা করে তিনি অমিতাভকে ‘লম্বু’ বলে ডাকেন এবং বিধুকে প্রশ্ন করেন, “তুই লম্বুকে গাড়ি দিয়ে দিলি?” বিধু হ্যাঁ বলতেই মা জানতে চান, গাড়ির দাম কত। তারপর নিজেই আন্দাজ করেন তিনি , “১১ লাখের মতো হবে নিশ্চয়ই।”
এই কথা শুনে বিধু হেসে ফেলেন এবং জানান, গাড়ির দাম আসলে প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা। দাম শুনেই তাঁর মা রেগে গিয়ে তাঁকে চড় মারেন এবং ‘বেওকুফ’ বলে গাল দেন। বিধুর কথায়, “আমি কোনওদিন এই ঘটনাটা ভুলব না। কারণ টাকা যদি আনন্দ দিতে না পারে, তাহলে সেই টাকার মানে কী?”
উল্লেখ্য, ‘একলব্য: দ্য রয়্যাল গার্ড’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, সইফ আলি খান, সঞ্জয় দত্ত ও বিদ্যা বালান। রাজা-হীন এক রাজবংশ, প্রাসাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রাজনীতি আর আধুনিক ভারতের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবি বক্স অফিসে সাফল্য না পেলেও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এমনকী, সেই বছর ভারতের অস্কার এন্ট্রি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিল ‘একলব্য’।
