২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। ২০২৬-এ না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আশা ভোঁসলে। দুই সুর সম্রাজ্ঞীর প্রয়াণে সঙ্গীতের জগতে অপূর্ণ ক্ষতি। এরপরই মঙ্গেশকর পরিবারের পক্ষ থেকে এক মহৎ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের ভাই, প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর জানিয়েছেন, তাঁর দুই দিদির স্মৃতি ও সম্মান রক্ষার্থে তাঁরা এশিয়ায় এক বিশাল হাসপাতাল তৈরি করতে চলেছেন।

লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলে, দুই বোনই দশকের পর দশক ধরে তাঁদের কণ্ঠ দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন। হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের মতে, এই হাসপাতালটি হবে তাঁর দিদিদের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের কথায়, "লতা দিদির সবসময়ই ইচ্ছা ছিল মানুষের সেবায় বড় কিছু করার। তাঁর সেই অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"

মঙ্গেশকর পরিবারের তরফে খবর, এই প্রকল্পটি ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হল, এটিকে এশিয়ার বৃহত্তম হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে একসঙ্গে কয়েক হাজার রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। 

উন্নত দেশগুলোতে যে ধরনের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকে, এখানেও সেই মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে ক্যানসার, হৃদরোগ এবং জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য আলাদা বিভাগ থাকবে।

মঙ্গেশকর পরিবারের উদ্দেশ্য হল সাধারণ ও গরিব মানুষ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন। তাই এখানে উন্নতমানের চিকিৎসার পাশাপাশি খরচের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

কোথায় তৈরি হবে? প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হাসপাতালটি মহারাষ্ট্রের পুণে বা তার পার্শ্ববর্তী কোনও এলাকায় তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গেশকর পরিবারের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এই অঞ্চলের সঙ্গে, তাই এখানেই তাঁরা এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি গড়তে চান। আশা ভোঁসলে নিজেও এই উদ্যোগ নিয়ে খুব উৎসাহিত। 


এই হাসপাতালটি চালু হলে কেবল ভারতেই নয়, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসতে পারবেন। এটি ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।


সঙ্গীতের সুর দিয়ে লতা ও আশা সারা জীবন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এবার তাঁদের নামে তৈরি এই হাসপাতালটি লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে তাঁদের অমর করে রাখবে। সুরের জাদুকরীদের এই উদ্যোগ প্রসংশনীয় বলে মনে করছেন বিদ্বজ্জনেরা।