২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ৯০তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগেই। স্বামীর মৃত্যু প্রসঙ্গে হেমা মালিনী বলেন, এই ঘটনা তাঁর জীবনে এক ‘অসীম আঘাত’। হাসপাতালে ধর্মেন্দ্রর শেষ দিনগুলোর স্মৃতি এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি। গত এক মাসকে তিনি ‘ভীষণ কষ্টের’ সময় হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে হেমা বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গেই ছিলাম। আমি, এষা, অহনা, সানি, ববি। এর আগেও এমন হয়েছে, উনি হাসপাতালে গিয়েছেন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। তাই ভেবেছিলাম, এ বারও ঠিক হয়ে ফিরবেন। আমাদের সঙ্গে খুব ভালভাবেই কথা বলছিলেন। আমার জন্মদিনে উনি আমাকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন। ৮ ডিসেম্বর ওর ৯০তম জন্মদিন ছিল, সেটা ভালভাবে উদযাপনের পরিকল্পনাও হচ্ছিল। সব প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু হঠাৎই উনি আর থাকলেন না। নিজের চোখে তাঁকে ধীরে ধীরে নিভে যেতে দেখা খুব কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেন কাউকেই না যেতে হয়।”

ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর দু’টি আলাদা প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ নভেম্বর মুম্বইয়ে একটি সভার আয়োজন করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কউর ও ছেলে সানি-ববি দেওল। অন্য দিকে, ১১ ডিসেম্বর দিল্লিতে প্রার্থনা সভার আয়োজন করেন দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী ও কন্যা এষা এবং অহনা দেওল। হেমার আয়োজনটি ছিল তাঁর নিজ বাসভবনে।

এই বিষয়ে মুখ খুলে হেমা বলেন, “এটা আমাদের পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়।” তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, নিজের ঘনিষ্ঠ মানুষের পরিধি আলাদা বলেই তিনি আলাদা করে বাড়িতে প্রার্থনা সভা করেন।

তিনি আরও জানান, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে দিল্লিতে তাঁর রাজনৈতিক বন্ধুদের জন্য একটি প্রার্থনা সভা করা জরুরি ছিল। পাশাপাশি তাঁর লোকসভা কেন্দ্র মথুরাতেও একটি প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়, কারণ সেখানে ধর্মেন্দ্রর অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন।

হেমা আরও জানান, ধর্মেন্দ্রর অত্যন্ত প্রিয় লোনাভালার ফার্মহাউসটি তাঁর স্মৃতিতে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হবে। এই উদ্যোগের দায়িত্ব নেবেন ছেলে সানি । হেমার কথায়, “সানি এটা অবশ্যই বাস্তবায়িত করবে। সবকিছু সুন্দরভাবেই এগোচ্ছে।”
শেষে তিনি বলেন, “তাই এই ভেবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই যে দুটো আলাদা পরিবার, ভবিষ্যতে কী হবে। এত দুশ্চিন্তার কোনও দরকার নেই। আমরা সবাই খুব ভাল আছি।”