বলিউডের মেধাবী অভিনেত্রী সায়নী গুপ্ত এখন সাফল্যের এক অন্য মাত্রায়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে তিনটি বড় সম্মাননা জিতে নিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের নতুন শর্ট ফিল্ম ‘আসমানি’ নিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে একের পর এক প্রশংসার পাশাপাশি জুরি ও দর্শকদের মন জয় করছেন তিনি।

 

 

নিজের এই দারুণ সাফল্যের কথা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে সায়নী লেখেন, “তিন দিনে তিনটি পুরস্কার পাওয়ার খবর দিতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।” এই কদিনের বড় অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে -

 

সাউথ এশিয়ান পার্সন অফ দ্য ইয়ার: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে, যা তাঁর কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

 

রেমি স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড: হিউস্টন থেকে ‘আসমানি’র জন্য এই বিশেষ পুরস্কার আসে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো— ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের আগেই এই সম্মাননা অর্জন করেছে ছবিটি।

 

বেস্ট শর্ট ফিল্ম অডিয়েন্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড: অস্টিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দর্শকদের ভোটে সেরা শর্ট ফিল্মের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ‘আসমানি’।

 

সায়নী বললেন, “এমন একটি সপ্তাহ যেখানে একসঙ্গে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার, দুটি পুরস্কার এবং গ্লোরির মুক্তি, জীবন যে এত সুন্দরভাবে সবকিছু পূর্ণ করে দিতে পারে, তা ভাবলে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”

 

এদিকে সদ্য নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে সায়নী অভিনীত নতুন সিরিজ ‘গ্লোরি’। সিরিজটিতে তিনি জয়না হাজারিকা নামের একজন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একটি জটিল খুনের মামলার তদন্তকারী সাংবাদিক হিসেবে তাঁর অভিনয়, বিশেষ করে তাঁর সাবলীল ও খাঁটি আসামের উচ্চারণের জন্য তিনি দারুণ প্রশংসা পাচ্ছেন।সিরিজটির গল্প গড়ে উঠেছে একটি ভেঙে যাওয়া পরিবারকে কেন্দ্র করে। একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর কীভাবে তারা আবার এক হয়ে জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নৈতিকতার মুখোমুখি হয়, তা নিয়েই সিরিজের মূল আখ্যান। ‘গ্লোরি’তে তাঁর সঙ্গে মুখ্যচরিত্রে রয়েছেন পুলকিত সম্রাট, দিব্যেন্দু এবং অন্যান্যরা।

 

‘গ্লোরি’ ও ‘আসমানি’— একই সময়ে দুটি প্রজেক্টের শুটিংয়ের শিডিউল নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন সায়নী। একটির ডেট অন্যটির সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে সায়নী জানান, কীভাবে নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি কাজটি শেষ করেছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “ভোর ৩টায় উঠে চার ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছে, তারপর আবার ‘ফোর মোর শটস প্লিজ’-এর আউটডোর শিডিউলের জন্য রওনা হতে হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমার টিম, নিশান্ত, আরিফ, হিন্দোল সবাই পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্ধুরা মিলে যখন একসঙ্গে কাজ করা যায়, তখন কোনও বাধাই আর বাধা থাকে না।”