মাঠে এখন ২০২৬ ওয়ার্ল্ড কাপের হাই-ভোল্টেজ জ্বর! আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের হয়ে একের পর এক গোল করে লিওনেল মেসি যখন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে ছুটছেন, ঠিক তখনই মাঠের সেই ‘মেসি ম্যাজিক’ আছড়ে পড়ল হলিউডের সুপারহিরো মাল্টিভার্সে। মার্ভেলের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির ঠিক আগে সনি পিকচার্স নিয়ে এল প্রায় এক মহাজাগতিক যুগলবন্দি! ফুটবল ঈশ্বর খোদ টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের সাথে নিউ ইয়র্কের আকাশ জুড়ে জাল বেয়ে উড়ে বেড়ালেন, যা দেখে ক্রীড়া ও সিনেমা জগৎ— দুই দুনিয়ার অনুরাগীদেরই চোখ কপালে!
সনি পিকচার্সের রিলিজ করা এই মজাদার প্রোমো ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায় নিউ ইয়র্কের এক ছিমছাম কফি শপে বসে ফোনে গভীর আলোচনায় মগ্ন পিটার পার্কার (টম হল্যান্ড)। এরপর কথা বলতে বলতে কোনোকিছুতে চোখ আটকে যায় তাঁর। হুট করেই সে ফোনের ওপাশের মানুষটাকে চেঁচিয়ে বলে ওঠে, “শাট আপ”। ওভাবে পিটার বিষম খাওয়ার কারণ কিন্তু ফোন কলটি ছিল না, কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যাফের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকেছেন খোদ লিওনেল মেসি!
হতভম্ব পিটার অবিশ্বাসের সুরে জিজ্ঞেস করে, “মেসি?”। ক্যাফের মালিক অবশ্য বেশ ক্যাজুয়াল, ওঁর ভাবখানা এমন যেন মেসির মতো মহাতারকা রোজই ওঁর দোকানে চা খেতে আসেন! কিন্তু মেসি সেখানে কী করছেন? এলএম১০ ওঁর ফোনটি উঁচিয়ে দেখান যে, তিনি আসলে স্পাইডার-ম্যানকে খুঁজছেন! শোনামাত্রই তথমত খেয়ে গেলেও মুহূর্তের মধ্যেই পিটার একটু আড়াল হয়ে ওঁর চেনা স্পাইডি স্যুটে ফিরে আসে। মেসি কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্পাইডার-ম্যানের প্রশ্ন, “উচ্চতা নিয়ে তোমার ভয় নেই তো?”। আর তার পরেই, মাঠের ড্রিবলিং কিং ম্যানহাটনের আকাশচুম্বী ইমারতগুলোর মাঝখান দিয়ে স্পাইডির জালের শেষ প্রান্তে ঝুলে কেরিয়ারের প্রথম ‘ওয়েব স্লিংগিং’ রাইডের রোমাঞ্চ উপভোগ করলেন! সঙ্গে খিলখিলিয়ে হাসি এবং হুল্লোড়ে চিৎকার। তবে এই ‘জয় রাইড’-এর গোটা ঘটনায় মেসি না স্পাইডার ম্যান কে বেশি খুশি, তা বলার জন্য কোনও পুরস্কার নেই।
ভিডিওটি মুক্তি পেতেই ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি ইউটিউবের কমেন্ট সেকশনে ফ্যানদের মজাদার কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। মেসিকে এমন অবতারে দেখে একজন লিখেছেন, “স্পাইডার ম্যানের সঙ্গে মেসির এই ক্যামিওটা যে কোনও সিনেমার প্লট টুইস্টের চেয়েও বেশি অপ্রত্যাশিত, বেশি চমকানো!” অন্য একজন তো শব্দ নিয়ে মজাদার খেলা করে লিখেছেন, “পিটারের জীবনটা এবার সত্যিই একটু বেশি ‘মেসি’ (জটিল) হয়ে গেল!” তবে মার্ভেল কমিকসের চেনা ট্র্যাডিশন মেনে সবচেয়ে সেরা রসিকতাটি করেছেন এক নেটিজেন, ওঁর দাবি— “মেসি ফিরবে এবার অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে-তে !”
ওয়ার্ল্ড কাপের এই টানটান উত্তেজনার আবহেই আগামী ৩০শে জুলাই প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটনের পরিচালনায় এই ছবিতে পিটার পার্কারের জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট হতে চলেছে। ‘নো ওয়ে হোম’-এ ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জাদুর পর আজ পিটারের নিজের বলতে কেউ নেই, এমজে (জেণ্ডায়া) বা বেস্ট ফ্রেন্ড নেড (জ্যাকব ব্যাটালন)— সবাই ওকে ভুলে গেছে। সঙ্গে এবার পিটারকে কোনো হাই-টেক গ্যাজেট ছাড়াই এক চরম রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা হয়তো ওঁর নিজের নিয়ন্ত্রণেও থাকবে না! তার ওপর নিউ ইয়র্কের বুকে হানা দিয়েছে এমন এক রহস্যময় নতুন ভিলেন, যাকে কেউ চোখেই দেখতে পায় না!
ফ্যানদের মধ্যে ইতিমধ্যেই জোরালো গুঞ্জন, এই ছবির হাত ধরেই নাকি এমসিইউ-তে ‘মিউট্যান্ট’ বা এক্স-মেনদের এন্ট্রি হতে চলেছে। ছবিতে স্যাডি সিঙ্ক-এর কাস্টিং নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, অনেকেই মনে করছেন ওকে হয়তো কালজয়ী ‘জিন গ্রে’-র চরিত্রে দেখা যেতে পারে।
জেণ্ডায়া, মার্ক রাফেলো (হাল্ক) এবং জন বার্নথাল (পানিশার)-এর মতো হেভিওয়েট কাস্টিং নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি টমের কেরিয়ারের সবচেয়ে স্বাধীন ও ডার্ক স্পাইডার-ম্যান ফিল্ম হতে চলেছে। বিশ্বকাপের ট্রফি কার হাতে উঠবে তা তো সময়ই বলবে, তবে বড়পর্দায় স্পাইডি আর মেসির এই নস্টালজিক ড্রিবলিং যে বক্স অফিসে ঝড় তুলতে তৈরি, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই!















