নয়ের দশকের বলিউডের অন্যতম চর্চিত ও জনপ্রিয় জুটি ছিলেন অক্ষয় কুমার এবং রবীনা ট্যান্ডন। ‘মোহরা’, ‘বারুদ’, কিংবা ‘খিলাড়িও কা খিলাড়ি’-র মতো একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন যেমন ঝড় তুলেছিল, তেমনই তাঁদের অফস্ক্রিন প্রেমও ছিল পেজ-থ্রির হট টপিক। ২০০৪ সালে ‘পুলিশ ফোর্স: অ্যান ইনসাইড স্টোরি’ ছবির পর দীর্ঘ ২২ বছর এই জুটিকে আর একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। অবশেষে ২০২৬ সালের মেগা কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর হাত ধরে রূপোলি পর্দায় ফিরল সেই নস্টালজিয়া।

ছবির একটি বিশেষ দৃশ্য এখন সিনেমাপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরছে। যেখানে রবীনার চরিত্র (জোয়া) অক্ষয়ের চরিত্র (রাজীব)-কে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে— “কুড়ি বছর ধরে কোথায় ছিলে তুমি?”। চিত্রনাট্যের খাতিরে লেখা এই সাধারণ সংলাপটি থিয়েটারে বসা দর্শকদের কাছে এমন এক পরিস্থিতি হিসেবে ধরা দিয়েছে, যা তাঁদের পুরনো প্রেমের অতীতকে আলতো করে ছুঁয়ে যায়।

নয়ের দশকের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ছবির পরিচালক আহমেদ খান বলেন, “ওরা দুজনেই আমার খুব ভাল বন্ধু। আমরা প্রায় একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম। আমি ওদের সেই সময়টা (প্রেমের দিনগুলো) খুব কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু আমাদের এখন বয়স হয়েছে যথেষ্ট। আমাদের বিয়ে হয়েছে, ছেলেপুলেও হয়েছে। আজ পেছনে ফিরে তাকালে ওইসব অতীতকে খুব ছেলেমানুষি মনে হয়।”অক্ষয় ও রবীনাকে এই দৃশ্যের জন্য রাজি করানো মোটেও সহজ ছিল না। পরিচালক কীভাবে তাঁদের রাজি করলেন? আহমেদ হেসে বলেন, “আমি ওদের সোজা বলেছিলাম— ‘আমার জন্য এইটুকু করবে না তো কার জন্য করবে?’ তারপর আমরা ঠিক করলাম, দর্শকদের জানাই যে তোমরা ২০ বছর পর কোনও ছবিতে একসঙ্গে ফিরছ। আমরা খুব বুদ্ধি খাটিয়ে এবং সাবধানে দৃশ্যটি তৈরি করেছিলাম। এর পেছনে একটা সুক্ষ্ম সাবটেক্সট ছিল, যা দর্শক দেখামাত্রই ধরে ফেলেছে এবং মজাটা উপভোগ করেছে।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে অক্ষয় ও রবীনার সম্পর্কের শুরু হয় এবং তীব্র মিডিয়া ট্রায়ালের মাঝে ১৯৯৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এই অতীতকে ভুলে স্পোর্টিংলি দৃশ্যটি করার জন্য অক্ষয়-রবীনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ পরিচালক।

শুটিং সেটে অক্ষয় ও রবীনার সমীকরণ কেমন ছিল? আহমেদ খান জানান, ওদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা ‘গুড মর্নিং-গুড ইভনিং’ বলার বালাই ছিল না। “ওরা একে অপরকে ‘তুই’ বলে ডাকে। অক্ষয় সেটে এলেই বলত— ‘রবীনা, কী করছিস? এদিকে আয়, তাড়াতাড়ি দাঁড়া।’ আসলে অক্ষয়, সুনীল শেট্টি এবং রবীনা মিলে তো আইকনিক ‘মোহরা’ টিম। তাই ছবিতে ‘মোহরা’ সিনেমা নিয়ে একটা মজাদার জোকসও রাখা হয়েছে। সেটে ওদের নিয়ে কাজ করতে আমার বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়নি।”

‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবিতে প্রায় ৩৪ জন নামী তারকা অভিনয় করেছেন। এত বড় কাস্টিংয়ের ডেট পাওয়া এবং তাঁদের এক ছাদের তলায় আনা কোনও সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু পর্দায় অভিনেতাদের এই দুর্দান্ত অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দেখে দর্শকেরা যেভাবে ‘গোলমাল’ বা ‘হেরা ফেরি’-র মতো কাল্ট ক্লাসিকের দিনগুলো মনে করছেন, তাতে অত্যন্ত খুশি পরিচালক।

আহমেদ জানান, “অক্ষয়, সুনীল আর পরেশ রাওয়াল যখনই সেটে একসঙ্গে বসতেন, মনে হতো লাইভ ‘হেরা ফেরি’ চলছে! একে অপরের কাঁধে হাত দিয়ে গল্প করতেন। আবার অক্ষয় আর আরশাদ ওয়ার্সিকে দেখলে ‘জলি এলএলবি’-র কথা মনে পড়ত। অন্যদিকে তুষার কাপুর, শ্রেয়াস তালপাড়ে আর জনি লিভার ভাই একসঙ্গে দাঁড়ালে ‘গোলমাল’-এর ভাইব আসত। সেখানে কোনো ‘আপ’ বা ‘জনাব’ ছিল না, সবাই একে অপরের কোলে বসে আড্ডা দিতেন। সেটের পরিবেশটাই ছিল ম্যাজিকাল।”