হুগলির তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জির একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি ও টলিউড। লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তারকা প্রার্থীদের রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে তরজা নতুন নয়, কিন্তু এবার ‘দিদি নং ১’ খ্যাত রচনার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরাসরি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণ অভিনেতা ও পরিচালক ঋদ্ধি সেন।
সমাজমাধ্যমের পাতায় রচনা ব্যানার্জির একটি বক্তব্য তুলে ধরে ওঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন ঋদ্ধি। ওঁর মতে, রচনার এই মনোভাব অত্যন্ত অহঙ্কারী এবং এটি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি চরম ঔদ্ধত্যের প্রতীক।
সম্প্রতি রচনা ব্যানার্জি মন্তব্য করেছিলেন যে, নির্বাচনে ওঁর বদলে কোনও ‘ফুটপাথের’ বা ‘গড়িয়াহাটের’ মেয়েকে কেন দাঁড় করালেন না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি)। রচনার এই বয়ানে ‘ফুটপাথ’ বা ‘গড়িয়াহাট’ শব্দবন্ধের ব্যবহার এবং এর পেছনের সুরটি একেবারেই ভালভাবে নেননি ঋদ্ধি সেন।
নিজের ফেসবুক ওয়ালে ঋদ্ধি অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, “রচনা ব্যানার্জি নিজের অপরিহার্যতা এবং ঠুনকো দম্ভের রচনা পড়তে পড়তে বললেন যে নির্বাচনে তার বদলে কোনও 'ফুটপাথের' বা 'গড়িয়াহাটের' মেয়েকে কেন দাঁড় করালেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই মনোভাব একমাত্র এবং একমাত্র এই রাজ্য, দেশ এবং পৃথিবীর সব থেকে বড় শত্রু।” ঋদ্ধি ওঁর পোস্টে শাসকদল এবং তারকা রাজনীতিকদের এই ‘স্টার পাওয়ার’ বা তারকা-সুলভ মানসিকতার দ্বিচারিতাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যে ফুটপাথ বা হকারদের ভোট নিয়ে নেতারা জেতেন, জেতার পর তাঁরাই তাঁদের অবজ্ঞা করেন।
উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ঋদ্ধি আরও যোগ করেন -" যে শাসক ফুটপাথের লোকের ভোটে জয়ী হয়, ফুটপাথে যায় ভোট চাইতে, ফুটপাথ আঁকড়ে বেঁচে থাকার লড়াই করা মানুষের কথা শোনার প্রতিশ্রুতি দেয়, ঠিক তারাই বিশ্বাস করে যে ফুটপাথ থেকে উঠে আসা কোনও মেয়ের কোনোদিন মেম্বার অফ পার্লামেন্ট হওয়ার ক্ষমতা নেই। এরাই সবার আগে ফুটপাথের মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ করে, বাসস্থান ভেঙে দেয় বুলডোজার দিয়ে। আসলে বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দেয় শরীরটা, তার বহু আগেই শরীরের ভেতরে অবস্থিত মনটাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে 'স্টার পাওয়ার' মনোভাবের বুলডোজার।
রচনার এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে ঋদ্ধি সেন ওঁর পোস্টের শেষে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে রচনা ব্যানার্জি প্রমাণ করে দিলেন যে তিনি স্রেফ ঘৃণার যোগ্য। তবে সাধারণ মানুষের শক্তির ওপর ভরসা রেখে তরুণ পরিচালক হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন— “একদিন ঠিক সময়ে আসবে, ফুটপাথের মানুষ এদের পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্যকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে ফুটপাথে, গড়িয়াহাট, হাটে বাজারে।”
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রচনার একাধিক মন্তব্য মাঝেমধ্যেই ট্রোলের শিকার হয়েছে, কিন্তু টলিউডেরই একজন সহকর্মী ও প্রতিভাবান অভিনেতার কাছ থেকে আসা এই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আক্রমণ রচনার সাংসদ পদের ভাবমূর্তিকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।















