কেমন আছেন 'রাকা'?
কুণাল: দারুণ আছি। 


যখন কেউ আপনাকে চরিত্রের নামে ডাকে কেমন লাগে?
 কুণাল: শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়, আপনি যখন রাকা বলে ডাকলেন, আমিও কয়েক মুহূর্তের জন্য ফ্ল্যাশব্যাকে চলে গিয়েছিলাম। আমার চরিত্র 'রাকা' লাইমলাইটে আর কুণাল ঠিক তার পিছনে। সব অভিনেতারই তো এমন স্বপ্ন থাকে।


কিন্তু আমার তো মনে হয় রাকা আর কুণাল একদম বিপরীত? 
 কুণাল: ঠিক বলেছেন। এক্সট্রিমলি অপোজিট। ছোটবেলায় আমি খুব বাধ্য ছিলাম তা নয়, মাঝে মাঝেই ক্লাস বাঙ্ক করতাম। স্কুলে শাস্তি পেতাম, ক্ষমা চেয়ে চিঠিও দিতে হয়েছে। রাকা কোচের বাধ্য ছাত্র। কোচের সামনে মাথা নীচু করে কথা বলে। 


আবুধাবি থেকে মুম্বই-এ, বাড়ির মত ছিল?
 কুণাল: অনেক কষ্ট করে রাজি করাতে হয়েছে। বলেছিলাম একটা বছর আমাকে অভিনয় করতে দাও। কিন্তু এক বছরে কিছুই করতে পারিনি। দু’বছর কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছি। সেভিংসে যা ছিল সেখান থেকেই খরচ করতে হয়েছে। খুব খারাপ একটা ফেজ ছিল। চেষ্টা ছাড়িনি। তাই তো এই ন’বছরে এমন একটা জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি, যেখানে কাস্টিং ডিরেক্টররা আমাকে ভাল অভিনেতা মনে করেন।আমাকে কাস্ট করছেন। 


ভাল অভিনেতা কিন্তু কাজ পাচ্ছে না, যেমনটা রাকার সঙ্গে হয়েছিল, আপনিও সেইরকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন?
 কুণাল: হ্যাঁ। অনেকবার। আমার মনে হয়, অনেক অভিনেতাকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। রাকার মত আমিও সহজে কিছু পাইনি। রাজনীতির শিকার হয়েছি। 


 ‘গ্লোরি’র রাকা হয়ে উঠতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে নিশ্চয়ই?
 কুণাল: আন্তর্জাতিক স্তরের বস্কারদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। ওদের কথা শুনেছি। সিলেকশন না হওয়ার কষ্ট, অন্য কেউ জায়গা নিয়ে নিলে কতটা খারাপ লাগে সবটাই জেনেছি। অনুভব করার চেষ্টা করেছি। প্রচুর খেতে হয়েছে ওজন বাড়ানোর জন্য।


মডেলিং-এর জগত আর অভিনয়ের জগত কতটা আলাদা?
 কুণাল: ভয়ঙ্কর পার্থক্য। মডেলিং-এ তো কোনও চরিত্র হয়ে উঠতে হয় না। শুধু জামাকাপড় পরে অ্যাটিটিউড নিয়ে ওয়াক করতে হয়। জাস্ট ৫ মিনিটের কাজ। তবে এটা ঠিক, মডেলিং থেকে ক্যামেরার সামনে কীভাবে কাজ করতে হয়, সেটা শিখেছি। এটা না করলে অভিনয়ের জগতে আসতে পারতাম না। অনেক কিছু শিখেছি। চ্যালেঞ্জ নিতে এখন ভয় পাই না।


‘কবীর সিং’ কি আপনার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট?
 কুণাল: বিগ টার্নিং পয়েন্ট।সফল না হলে অভিনয় ছেড়ে অন্য কিছু করতে হত। সন্দীপ স্যরের (সন্দীপ বঙ্গা) সঙ্গে মিটিংটা খুব আন্তরিক ছিল। তখনও বুঝতে পারিনি চরিত্রটা পাব কি না, এই ছবিটা করার আগে আমি আবুধাবি ফিরে গিয়েছিলাম। দু’বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু করতে পারিনি, হতাশ ছিলাম। ফেরার আগে ঠিক করেছিলাম এবার কিছু করতেই হবে। আর তখনই অফার আসে। ছবিটা যখন সফল হল, বুঝতে পারলাম, ভগবানের হাত আছে মাথার ওপর। এবার আমাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। আরও শিখতে হবে।

 
শুটিং ফ্লোরে আপনার বাবা এসেছিলেন, বাবাকে দেখে আপনিও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, পুরনো কথা মনে পড়ে গিয়েছিল? 
 কুণাল: ‘গ্লোরি’র সেটে কতদিন পর বাবার সঙ্গে দেখা। এর আগে বাবা কখনও শুটিং ফ্লোরে আসেননি। বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগই পেতাম না। খুব খুশি হয়েছিলাম। 


রাকা ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’, কিন্তু কুণাল তো খুব রোমান্টিক, যেভাবে মুক্তিকে প্রপোজ করেছিলেন...
 কুণাল: আরে আপনি কী করে জানলেন? জানেন মুক্তির নামের মধ্যেই কিন্তু আমি আছি।


কীভাবে?
 কুণাল: এম ইউ কে টি আই-- এই কে, টি তো কুণাল ঠাকুর। সত্যিই বাস্তবে আমি খুব রোমান্টিক। মুক্তিও ঠিক আমার মতো। ওর সঙ্গে একটা ছবির সূত্রে আলাপ। এরপর কাজের চাপে অনেকটা সময় কেটে যায়,মাঝে মাঝে কথা হত। তখন মুক্তির একটা শুটিং চলছিল, করওয়া চৌথ এর কয়েকদিন আগে। নিম করোলি বাবার দর্শন করে আমরা দিল্লি চলে গেলাম। একটা গার্ডেন বুক করেছিলাম, সঙ্গে ছিল ফ্রুট ওয়াইন আর সামনে আমার ভালবাসা। ব্যস মনের কথা বলে দিলাম। 

আপনার মহিলা অনুরাগীদের তো মন ভেঙে দিলেন?
 কুণাল: আমার কাছে তো মেয়েদের থেকে বেশি ছেলেদের মেসেজ আসে।

কী বলছেন?
 কুণাল: সত্যিই। ‘হাই ডিয়ার’, ‘আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই’, এরকম প্রচুর মেসেজ পাই। আমার ফলোয়ার্সদের মধ্যে ছেলেই বেশি।


ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার বন্ধু আছে?
 কুণাল: কয়েকজন বন্ধু আছে। আমি মনে করি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে হলে প্রোডিউসার, ডিরেক্টরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে হয়। এখানে তো অভিনেতার অভাব নেই, কিন্তু ডিরেক্টর, প্রোডিউসাররাই বুঝতে পারেন কোন চরিত্রে কাকে মানাবে। ওঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে মনে রাখতে পারেন। 


এখন তো সবাই ট্র্যাকে থাকার জন্য সমাজমাধ্যমকেই বেছে নেন?
 কুণাল: দেখুন যাঁরা রিল বানান, আমার কাছে তারা অভিনেতা নন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, তবে এটাও সত্যি সোশ্যালমিডিয়া স্ট্রং না হলে অভিনেতারাও পিছিয়ে পড়েন।


কী মনে হয় এখন চরিত্র বাছাই করে কাজ করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন?
 কুণাল: নিশ্চয়ই। এরকম একটা চরিত্রের অফার এসেছিল, যেটা করতে মন চাইছিল না। করিনি। এমন চরিত্র যেখানে মহিলাদের অপমান করা হচ্ছে সেরকম চরিত্রে কখনওই কাজ করব না। চরিত্রটাকে তো বাস্তব করে তুলতে হবে। তাতে দর্শক আমাকে ঘৃণা করবেন। আমি দর্শকের ভালবাসা পেতে চাই, আর এই ধরনের চরিত্রকে প্রোমোটও করতে চাই না। আবেগ, ভালবাসা, সততা, বিচ্ছেদ এগুলো আমার শক্তি। এই ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতে চাই।


আপনি যে স্বপ্ন নিয়ে মুম্বই এসেছিলেন, কতটা পৌঁছতে পারলেন?
 কুণাল:  স্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। আমি চেয়েছিলাম গল্পের চরিত্র হয়ে উঠতে। ভাল কাজ করতে যাতে দর্শক আমাকে মনে রাখেন। ২৭-২৮ বছরে শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। এই বয়সে অনেক অভিনেতা স্টার হয়ে যান। অনেকে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে যান। সেদিক থেকে আমি ভাগ্যবান এই সময়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছি। পরিচিতি পেয়েছি। বিয়ে করার সাহস পেয়েছি। আগামিদিনে ছবিতেও আমাকে দেখা যাবে।