এই বছর পদ্মশ্রী পুরস্কার পাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই ঘোষণার পর এদিন অভিনেতার বাড়ি 'উৎসব' -এ হাজির হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার, রুদ্রনীল ঘোষ সহ আরও অনেকেই এসেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং সাংসদ এদিন একগুচ্ছ উপহার নিয়ে এসেছিলেন উৎসবে। সেগুলো এক এক করে তুলে দেন বুম্বাদার হাতে।
উত্তরীয় পরিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বরণ করে নিন তিনি। তারপর হাতে তুলে দেন একটি ফুলের তোড়া। এমনকী রামলালার একটি মূর্তিও এদিন তাঁকে এবং রুদ্রনীল ঘোষকে উপহার দিতে দেখা যায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। চলে খোশমেজাজে গল্প আড্ডাও।
সুকান্ত মজুমদারকে এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চেহারা নিয়ে কথ বলতে দেখা যায়। তাঁর মতে, অতীতে বয়স ধরে রাখার জন্য মানুষরা প্রায় কিছু না খেয়ে থাকতেন যেমন, তেমনটাই মেনে চলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর কথায় সম্মতিও জানান অভিনেতা।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে শেষবার দর্শক 'বিজয়নগরের হীরে' ছবিতে দেখেছেন। চন্দ্রাশিস রায় পরিচালিত এই ছবিতে আবারও কাকাবাবু হয়ে ফিরেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে সন্তু হয়ে ছিলেন আরিয়ান ভৌমিক। এছাড়া ছবিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন রাজনন্দিনী পাল, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, সত্যম ভট্টাচার্য, পুষান দাশগুপ্ত, প্রমুখ। দর্শকদের থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। এমনকী বক্স অফিসেও বেশ ভালই ব্যবসা করেছে ছবিটি। এটি 'কাকাবাবু' ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ ছবি। এর আগের তিনটি ছবি সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালনা করেছিলেন, এবার পরিচালক বদলাল। তবে প্রযোজক একই থেকে গিয়েছে, অর্থাৎ এসভিএফ।
সম্প্রতি ছেলেকে নিয়ে এই ছবি দেখতে গিয়েছিলেন তারকা জুটি রাজা মধুবনী, তার রিভিউও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তাঁরা। সেই পোস্ট চোখ এড়ায়নি খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়েরও। ছোট্ট কেশবের এই ভালবাসায় আপ্লুত হয়েছেন তিনিও। এক প্রজন্মের কাকাবাবু যে আরেক প্রজন্মের কল্পনাতেও ঠিক ততটাই জীবন্ত, এই গল্পই যেন আবার মনে করিয়ে দিল সেই সত্য। তাই তো তিনি ফেসবুকে মধুবনীর সেই পোস্ট শেয়ার করে পাল্টা লিখলেন, “ধন্যবাদ কেশব। কাকাবাবু শুধু একটা চরিত্র নয়, সে যদি কাউকে এমন করে কৌতূহলী করে তোলে, প্রশ্ন করতে শেখায়, বইয়ের দিকে টেনে আনে তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক। কেশবের এই ভালবাসা আর অনুসন্ধানী মনটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনেক ভালবাসা রইল তোমাদের সবার জন্য।”
প্রসেনজিতের সেই পোস্ট দেখে আপ্লুত কেশবের বাবা রাজা। তাই তো ‘কাকাবাবু’র সেই পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করে রাজা লিখলেন, “আমি এখনও ঘোরের মধ্যে আছি দ্য প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আমাদের সকলের প্রিয় শ্রদ্ধেয় বুম্বাদার মন্তব্য দেখে। আমি জীবনে কোনও দিনও লটারির টিকিট কাটিনি কিন্তু আজ সেরা পুরস্কারটা পেয়ে গেলাম, অসংখ্য ধন্যবাদ আর প্রণাম দাদা। কাল সারা রাত আনন্দে ঘুম হয়নি। ওয়ান্স এগেইন থ্যাঙ্ক ইউ দাদা…”
