রাতে ঘুমোনোর সময় টিভি চালু রাখা বা বেডসাইড ল্যাম্প জ্বালিয়ে রাখা অনেকেরই অভ্যাস। আলোটা কম থাকলে ক্ষতি নেই, এই ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ঘুমের সময় এই সামান্য আলোই ভবিষ্যতে বড় অসুখের কারণ হতে পারে।
2
7
প্রসিডিংস অফ দ্যা ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস (পিএনএএস)- এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ঘুমের সময় হালকা আলো থাকলেও শরীরের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
3
7
গবেষকদের মতে, আমাদের শরীর রাতে গভীর ঘুমের মধ্যে দিয়ে নিজেকে ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ পায়। এই সময়েই শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ঠিকভাবে কাজ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু ঘুমের সময় আলো থাকলে শরীর সেই গভীর ঘুমে পুরোপুরি যেতে পারে না।
4
7
আলো থাকলে মস্তিষ্ক মনে করে এখনও জেগে থাকার সময় চলছে। ফলে মেলাটোনিন নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন ঠিকমতো নিঃসৃত হয় না। এই হরমোন শুধু ভাল ঘুমের জন্য নয়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও খুব জরুরি। মেলাটোনিন কমে গেলে রাতে শরীর গ্লুকোজ ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
5
7
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করে না। এর ফলেই ধীরে ধীরে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
6
7
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খুব উজ্জ্বল আলো না হলেও ক্ষতি হতে পারে। টিভির আলো, নাইট ল্যাম্প, মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন লাইট বা জানলা দিয়ে ঢোকা রাস্তার আলো-এক্ষেত্রে সবই শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকী চোখ বন্ধ থাকলেও আলো মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এই কারণে চিকিৎসক ও গবেষকদের পরামর্শ, ঘুমোনোর সময় ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখা উচিত।
7
7
ঘুমোতে যাওয়ার আগে টিভি বন্ধ করুন, মোবাইল ফোন দূরে রাখুন এবং প্রয়োজনে ঘন পর্দা ব্যবহার করুন। এতে ঘুম ভাল হবে এবং শরীরের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ঠিক থাকবে। গবেষকদের মতে, সামান্য এই অভ্যাস বদল ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাই আজ থেকেই ঘুমের পরিবেশ নিয়ে সচেতন থাকুন।