সোনার দাম নির্ধারণ করে কে? বাজার, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং ব্যবসায়ীরা কীভাবে এই হলুদ ধাতুর মূল্য ঠিক করে?
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ : ১৬
- 1
- 15
সোনার দাম নির্ধারণের জন্য কোনও একক কর্তৃপক্ষ নেই। কোনও সরকার, ব্যাঙ্ক বা এক্সচেঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করে না যে এক আউন্স সোনার মূল্য কত হবে।
- 2
- 15
বিশ্বব্যাপী বাজারে সোনার মূল্য ক্রমাগত নির্ধারিত হয়। ফিউচার এক্সচেঞ্জ, স্পট মার্কেট এবং ভৌত বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিতে প্রতি বছর ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার হাতবদল হয়। প্রতি মুহূর্তে, ক্রেতা এবং বিক্রেতারা সম্মিলিতভাবে ঝুঁকি, তারল্য, প্রত্যাশা এবং আর্থিক ব্যবস্থার উপর আস্থার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করেন।
- 3
- 15
সোনার বিশ্ব মানদণ্ডটি নির্ধারিত হয় লন্ডনে। যা মূল্যবান ধাতুর জন্য বিশ্বের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম কেন্দ্র। এলবিএমএ গোল্ড প্রাইস (লন্ডন ফিক্স) প্রতিদিন দু’বার একটি ইলেকট্রনিক, নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় জেপি মরগান চেজ, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং ইউবিএস-এর মতো প্রতিষ্ঠান-সহ ১৫টি প্রধান ব্যাঙ্ক জড়িত থাকে। লন্ডন ফিক্স হল সোনার ‘পাইকারি’ মূল্য, যা দৈনিক খুচরো বাজারে দেখা যাওয়া ফটকাবাজি থেকে মুক্ত।
- 4
- 15
যদি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা ১০,০০০ আউন্সের বেশি হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট মূল্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত নিলামটি পুনরায় শুরু হয়। এই লন্ডন ফিক্স হল বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলের ‘ধ্রুবতারা’। নিউমন্ট এবং ব্যারিক গোল্ডের মতো খনি কোম্পানিগুলি তাদের ত্রৈমাসিক উৎপাদনের মূল্য নির্ধারণ করতে এবং মার্কিন মিন্ট বুলিয়ন মুদ্রার মূল্য নির্ধারণ করতে এই মূল্য ব্যবহার করে।
- 5
- 15
লন্ডন যদিও প্রকৃত ধাতুর লেনদেন পরিচালনা করে, নিউ ইয়র্কের কমেক্স (কমোডিটি এক্সচেঞ্জ) ফিউচার চুক্তির মাধ্যমে ‘মূল্য নির্ধারণে’ আধিপত্য বিস্তার করে। নানা সংবাদমাধ্যমে যে ‘স্পট প্রাইজ’ দেখা যায়, সেটি এখানেই প্রকৃত অর্থে নির্ধারিত হয়।
- 6
- 15
COMEX হল একটি ডেরিভেটিভস বাজার যেখানে ব্যবসায়ীরা সোনার বারের ভৌত সরবরাহ না নিয়েই ভবিষ্যতের সোনার উপর বাজি ধরেন। COMEX-এ লেনদেন করা ‘কাগুজে সোনার’ পরিমাণ প্রায়শই বিশ্বে সোনার প্রকৃত ভৌত সরবরাহের চেয়ে ১০০ থেকে ১ এর বেশি অনুপাতের বেশি হয়।
- 7
- 15
যদি মূল্যবৃদ্ধির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, তবে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এই আশঙ্কায় কমেক্সের ব্যবসায়ীরা সোনা বিক্রি করতে পারেন। বিপরীতে, যদি মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে ‘পেপার গোল্ড’ কেনাবেচা বেড়ে যায়।
- 8
- 15
সোনা-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলি স্পট প্রাইজকে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করে। কারণ এগুলি ভল্টে ভৌত সোনা সংরক্ষণ করে। তবে, খুচরো বিনিয়োগকারীদের উপর খুব কমই স্পট প্রাইজের প্রভাব পড়ে।
- 9
- 15
সোনার বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘অদৃশ্য হাতটি’ হল বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির। আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগে এখনও বিশ্বের বৃহত্তম সোনার মজুত রয়েছে। ফোর্ট নক্স এবং ওয়েস্ট পয়েন্টের মতো স্থানে ৮,১৩৩ মেট্রিক টনেরও বেশি সোনা রয়েছে। গত ৩৬ মাসে পিপলস ব্যাঙ্ক অফ চায়না (পিবিওসি) এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। স্পট প্রাইজ বৃদ্ধি এড়াতে তারা প্রায়শই ‘বাজারের বাইরে’ লেনদেনের মাধ্যমে সোনা ক্রয় করেছে।
- 10
- 15
মূল্য নির্ধারণের ধাঁধার শেষ অংশটি হল প্রকৃত সুদের হার, যা ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড থেকে মুদ্রাস্ফীতির হার বাদ দিয়ে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিকভাবে সোনার সঙ্গে প্রকৃত ইল্ডের সম্পর্ক হল -০.৮০। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যখন আপনি একটি নিরাপদ সরকারি বন্ড থেকে ২% বা ৩% ‘প্রকৃত’ লাভ করতে পারেন, তখন সোনাকে আকর্ষণীয় মনে হয় না। কিন্তু যখন মুদ্রাস্ফীতি বন্ডের ইল্ডকে গ্রাস করে ফেলে এবং ‘প্রকৃত’ রিটার্নকে নেতিবাচক করে দেয়, তখন সোনা নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়।
- 11
- 15
তবে, আমরা বর্তমানে একটি বিরল ‘পরিবর্তন’ প্রত্যক্ষ করছি। চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে সোনা এবং ডলার মাঝে মাঝে একসঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক বিনিয়োগকারীদের জন্য, সোনার দাম এখন আর কেবল ‘মুদ্রাস্ফীতির’ প্রতিফলন নয়। এটি ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বিশ্বের আর্থিক ক্ষমতার পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের একটি জটিল রিয়েল-টাইম সূচক।
- 12
- 15
সোনার দাম শেষ পর্যন্ত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে, কিন্তু সেই চাহিদার চালিকাশক্তিগুলি বেশ জটিল। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এর অন্যতম শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য বিরোধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করে।
- 13
- 15
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কার্যকলাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গত এক দশকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনার আসল ক্রেতা। মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা সরাসরি সোনার চাহিদাকে প্রভাবিত করে। যখন বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন যে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে, তখন সোনা একটি সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।
- 14
- 15
সুদের হার সোনার দামে বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলে। সোনা কোনও আয় তৈরি করে না। যখন প্রকৃত সুদের হার বাড়ে, তখন আয় প্রদানকারী সম্পদগুলি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। যা প্রায়শই সোনার দামের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
- 15
- 15
