সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারের মন্তব্যকে ঘিরে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান। তিনি ইঙ্গিত দেন, ‘সাম্প্রদায়িক মনোভাব’-এর কারণেই হয়তো হিন্দি ছবিতে আগের মতো কাজ পাচ্ছেন না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে শনিবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন রহমান।

ভিডিওতে তিনি বলেন, “প্রিয় বন্ধুরা, সঙ্গীত সব সময়ই আমার কাছে সংযোগের মাধ্যম, আমাদের সংস্কৃতিকে উদযাপন ও সম্মান জানানোর ভাষা। ভারত আমার অনুপ্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার ঘর। আমি বুঝি, অনেক সময় যে উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলা হয়, তার ভুল মানে পৌঁছে যায়। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য বরাবরই সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষকে উজ্জীবিত করা, সম্মান জানানো এবং সেবা করা। কাউকে আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা আমার কখনওই ছিল না। আশা করি, আমার আন্তরিকতা আপনারা অনুভব করবেন। আমি গর্বিত একজন ভারতীয় হতে পেরে, কারণ এই দেশই আমাকে এমন এক পরিসর দিয়েছে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এবং সব ধরনের সাংস্কৃতিক কণ্ঠস্বর উদযাপিত হয়।”

এর পাশাপাশি রহমান তাঁর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রোজেক্টের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একাধিক বড় কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তাঁর আসন্ন ছবি ‘রামায়ণ’-এর কাজও চলছে।
ভিডিও বার্তার শেষে সুরকার বলেন, “এই দেশের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। অতীতকে সম্মান করে, বর্তমানকে উদযাপন করে এবং ভবিষ্যৎকে অনুপ্রাণিত করে, এমন সঙ্গীত তৈরির প্রতিই আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জয় হিন্দ, জয় হো!”

">https://www.instagram.com/reels/DTowxHKkaZF/

বিতর্কের মাঝেই কঙ্গনা রানাউতের রোষের শিকার হন রহমান। অভিনেত্রীর দাবি,  তাঁর ছবি ‘ইমার্জেন্সি’-র জন্য গান তৈরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন রহমান, আর তার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা জানান, তিনি চেয়েছিলেন ‘ইমার্জেন্সি’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবির আবহ সঙ্গীত বা গান তৈরি করুন এ আর রহমান। কিন্তু রহমান নাকি তাঁর ছবির চিত্রনাট্য বা কাজের ধরন না শুনেই সরাসরি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কঙ্গনার কথায়, “আমি ওঁর কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি রাজি হননি। আসলে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ আমাকে এবং আমার আদর্শকে ভয় পায়। রহমানের মতো ব্যক্তিত্বও যখন কোনও কারণ ছাড়াই সরে দাঁড়ান, তখন বুঝতে হবে এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনও দলাদলি বা পক্ষপাত কাজ করছে।”