যখন অন্নু কাপুর কথা বলেন, তখন শুধু কথা হয় না, বিস্ফোরণ ঘটে! তাঁর মুখে একবার কিছু বেরোলে সেটা সরাসরি ভাইরাল ক্লাসিকের রূপ নেয়। এবারও ব্যতিক্রম হল না। অভিনেতা অন্নু কাপুর তমান্না ভাটিয়াকে নিয়ে তাঁর করা বিতর্কিত মন্তব্য 'দুধিয়া বদন' প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র তমান্নার প্রশংসা করতেই এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তবে এই মন্তব্যে তমান্না যদি কোনওভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে তিনি তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতেও প্রস্তুত।

গত বছর একটি সাক্ষাৎকারে তমান্নার ‘আজ কী রাত’ গানের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করার সময় এই মন্তব্যটি করেছিলেন অন্নু কাপুর, যা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

অন্নু কাপুর জানান, গত বছর এক আমেরিকা সফরের সময় তাঁর টিম প্রতিযোগীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং গান হিসেবে ‘আজ কি রাত’-এর নাম প্রস্তাব করে। কৌতূহলবশত তিনি ভিডিওটি দেখেন এবং তামান্নার নাচের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, “আমি ভিডিওটি দেখেছিলাম এবং বলেছিলাম যে সে খুব ভাল নাচছে। এটুকুই ঘটেছিল।”

সমালোচনার জবাবে তিনি দাবি করেন যে, ইংরেজিতে একই কথা বললে হয়তো এতটা বিতর্ক হত না। তিনি বলেন, “যদি আমি ইংরেজিতে ‘মিল্কি বডি’ বলতাম, তবে হয়তো কোনও সমস্যা হত না। কিন্তু হিন্দিতে বলাতেই সমস্যা তৈরি হল।”

শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করা এবং অসৎ উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য টেনে অন্নু কাপুর বলেন যে, কারওর বাহ্যিক রূপের প্রশংসা করার অর্থ এই নয় যে তাকে নিয়ে মনে কোনও লালসা রয়েছে। বর্ষীয়ান অভিনেতার কথায়, “আমি যদি কারওর শরীরের দিকে লক্ষ্য করি, তবে আমি তাঁর অবয়ব বা ফিটনেসের প্রশংসা করি, কিন্তু তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি না। আমার মনে তমান্নার প্রতি কোনও লালসা নেই। এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আমি আপনার ‘রোলস রয়েস’ গাড়ির প্রশংসা করতে পারি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি সেটা পাওয়ার লোভ করছি।”

তিনি জানান যে তমান্না চাইলে তিনি ক্ষমা চাইতে দ্বিধাবোধ করবেন না। তিনি বলেন,“সে যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি এ কথা বলেছি কি না, আমি বলব ‘হ্যাঁ, বলেছি। যদি তোমার খারাপ লেগে থাকে, তবে আমি তোমার পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাইব’। ৭১ বছর বয়সী একজন মানুষ যদি তাঁর পা স্পর্শ করে, তবে সে আর কী বলবে? কিছুই না, কারণ আমি কোনও ভুল উদ্দেশ্যে এটা করিনি।”

সবশেষে, অন্নু কাপুর আবারও জোর দিয়ে বলেন যে তাঁর মন্তব্যের পিছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না, এটি ছিল নেহাতই তমান্নার পারফরম্যান্সের একটি প্রশংসা।