কুল খাওয়া বারণ, ভোগের গন্ধটা যেন মন ভাল করে দেয়, বাঙালির সরস্বতী পুজো মানেই কয়েকটা বাঁধাধরা জিনিস থাকবেই। বাগদেবীর আরাধনায় কেমন কেটেছে ছোটবেলা? কী বলছেন টলিউডের তারকারা? আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে সরস্বতী পুজোর নস্টালজিয়া হাতড়ালেন অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, "বড় হওয়ার আগে প্রতিটা সরস্বতী পুজোই কেটেছে আমার এক জেঠুর বাড়িতে। সেখানে বিরাট বড় প্রতিমা আসত, ভোগ রান্না হত। তখন তো ছোট ছিলাম অত বুঝতাম না। ঠাকুরমশাই পুজো করে চলে যাওয়ার পরে তাই ওই আসনে বসে আমি ঠাকুরমশাইয়ের নকল করতাম।"
তিনি আরও বলেন, "আমার মনে আছে ছোটবেলার স্কুলে সরস্বতী পুজোর ভোগটা যেন আলাদাই স্বাদের ছিল। খুব ঝকমারি আয়োজন হয়তো ছিল না। খিচুড়ি, বেগুনি এসব থাকত, তবে স্কুলে রান্না হত। পুজো পেরিয়ে গেলে একদিন খাওয়াদাওয়া হত। এটা খুব মনে পড়ে।"
অভিনেত্রী ইশা সাহার কাছে সরস্বতী পুজো মানে মায়ের শাড়ি আর কুল খাওয়ার বারণ। মেয়ে বেলার স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন,"কুল খেতে মা বারণ করত ঠিকই, তবে সঙ্গে একটা কারণ জুড়ে দিত। বলত, ঠাণ্ডা লেগে যাবে। কথাটা যদিও সত্যিই। আমি কখনও তাই লুকিয়ে কুল খাইনি। কিন্তু এখন যদি কেউ পুজোর আগে দেয়, টুক করে খেয়ে নিই। নিজে কিনে খাই না, তবে কেউ দিলে না বলি না।"
ইশার কথায়, "ছোটবেলায় মায়ের শাড়িতেই বেশিরভাগ পুজো কাটিয়েছি। এতটাই রোগা ছিলাম, সবাই বলত তাঁতের শাড়ি পরতে। সেই শাড়ি পরে, ঘুরে বেরিয়ে একদম বাজে হাল করে বাড়ি ফিরতাম। মায়ের কত শাড়ি যে এভাবে নষ্ট করেছি, তার কোনও ঠিক নেই। এদিকে, পড়ে বুঝতে পারলাম তাঁতের শাড়ি আমার জন্য নয়। শুধু হলুদ শাড়ি পরতাম এক সময়, তারপর একটু বড় হয়ে মায়ের আলমারি ঘেঁটে বিভিন্ন রঙের হালকা শাড়ি খুঁজে নিতাম।"
অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যের কথায়, "ছোটবেলায় অপেক্ষা করে থাকতাম কবে বড় হয়ে দাদাদের সঙ্গে পুজোর আয়োজন করব। পুজোর আগে ঠাকুর বায়না করতে যাওয়া, ভোগের আয়োজন করা এসবের দায়িত্বগুলো যেন পরম পাওয়া ছিল। তখন কুমার শানুর গান লাউড স্পিকারে বাজানো ছিল রীতি। আমার যেহেতু ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল ছিল তাই পুজো হত না। বন্ধুরা যখন মেয়েদের স্কুলে নেমতন্ন করতে যেত, তখন ওদের বলতাম আমায় যেন নিয়ে যায়। সেটা একটা দারুণ এক্সপিরিয়েন্স। পুজোর দিন বাসন্তী রঙের শাড়িতে কোনও মেয়েকে দেখে অপূর্ব সুন্দর লেগেছে, পরে হয়তো তাকে দেখে মনে হয়েছে সে তো সাধারণ। তবে সেদিন যেন অপরূপা ছিল সে। এখন তো এসব স্মৃতির পাতায়।"
বিশ্বনাথ বসুর কথায়, "স্কুলে সরস্বতী পুজোর দায়িত্বটার কথা খুব মনে পড়ে। সে যেন এক বিরাট পাওয়া। বাসন্তী শাড়িতে চেনা মানুষ যেন অচেনা হয়ে উঠত। সেই রোমাঞ্চগুলো মনে পড়লে বিভোর হয়ে যাই।"
অভিনেতা আরিয়ান ভৌমিক বলেন, "আমাদের কো-এডুকেশন স্কুল ছিল। এদিন অনেকেই বন্ধুর মধ্যেই প্রেমিকা খুঁজে পেয়েছে। তবে আমার সেসব হয়নি। পুজোর মধ্যে প্রেমটা ঠিক আসে না। আমি তো অপেক্ষা করতাম কখন অঞ্জলী দেব আর ঠাকুরের ভোগ খাব। ভোগের স্বাদ বোধহয় আমাদের সবার মন ভাল করে দেয়।"
