গায়ক নিক জোনাস তার শৈশবের বন্ধু এবং বোন মায়া কিব্বেলের মৃত্যুতে শোকাহত। বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন মায়া৷ উইলসন'স ডিজিজের সঙ্গে লড়াই করছিলেন মায়া৷ মাত্র ৩০ বছর বয়সে মারা যান মায়া৷
মায়ার মা একটি বিস্তারিত ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই মর্মান্তিক খবরটি জানিয়েছেন৷ তাঁর মেয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল সেকথাও জানিয়েছেন৷
৭ মার্চ থেকে মায়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে৷ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয়৷ ডাক্তাররা তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এই রোগের সঙ্গে লড়াই করা কতটা কঠিন ছিল সেকথাও জানিয়েছেন মায়ার মা৷
তিনি লিখেছেন, "অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে খবরটি আমাকে জানাতে হচ্ছে। মায়া উইলসন'স ডিজিজ নামক একটি বিরল রোগে ভুগছিলেন। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাঁর শরীর হাল ছেড়ে দিয়েছিল। ৭ মার্চ ভোরে মায়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে৷ ওর হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে মায়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।"
মায়ার মা আরও জানিয়েছেন যে, এতটাই কষ্ট পেয়েছিল যে প্রায়শই ব্যথার কারণে মায়া কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়তেন। কিন্তু এখন তিনি স্বর্গে বাবার সঙ্গে ব্যথাহীন ভাবে কান্না ছাড়াই রয়েছেন৷
তিনি আরও বলেন, "যারা তাকে চেনে, তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে মায়া আর নেই। মায়া এখন সবথেকে ভাল জায়গায় রয়েছে৷ আমি জানি তিনি উপর থেকে আপনাদের সকলের উপর নজর রাখছেন। যারা ওকে ভালোবাসতেন এবং৷ খেয়াল রাখতেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ। আমি ওকে ভীষণ মিস করি। আমার সান্ত্বনা এই যে ও আর কষ্ট পাচ্ছেন না। আপনাদের সকলের জন্য ভালোবাসা।"
নিক জোনাস পোস্টে মন্তব্য করেছেন, " তুমি আমার বোন থাকবে চিরকাল৷ আমি তোমার জন্য সর্বদা আছি৷ "ছোটবেলা থেকেই নিক এবং তার ভাইদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল মায়ার৷ তিনি জোনাস ব্রাদার্সের একজন প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু। জোনাস পরিবারও মায়াকে ভালবাসতেন৷
উইলসন'স ডিজিজ, একটি বিরল বংশগত ব্যাধি যেখানে শরীর থেকে অতিরিক্ত তামা সঠিকভাবে অপসারণ করতে পারে না। অতিরিক্ত তামা শরীরে জমতে থাকলে লিভার, মস্তিষ্ক এবং চোখের মতো অঙ্গগুলির ক্ষতি হতে পারে।
