পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বিমান পরিবহন শিল্পে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এশিয়ার আকাশপথে চলাচল করা ফ্লাইটগুলির জন্য বিমা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত “ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম” বা যুদ্ধ বিমা আরোপ করেছে। এর ফলে ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে গেছে।
2
9
শিল্প সূত্রে জানা গেছে, এখন এশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা বা সেই অঞ্চলে যাতায়াত করা প্রতিটি বিমানের জন্য বাড়তি বিমা খরচ দিতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত প্রিমিয়াম বিমা সংস্থাগুলি আরোপ করছে কারণ ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত বেড়েছে।
3
9
বিমান শিল্পের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, একটি বড় ভারতীয় এয়ারলাইন গ্রুপকে একটি ন্যারো-বডি বিমানের প্রতিটি রাউন্ড ট্রিপের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত বিমা খরচ দিতে হচ্ছে। আর বড় আকারের ওয়াইড-বডি বিমানের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রতি রাউন্ড ট্রিপে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
4
9
সাধারণত বিমান সংস্থাগুলির বিমা চুক্তি বার্ষিক ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। কোন কোন রুটে তারা বছরে কত ফ্লাইট চালাবে তার ওপর ভিত্তি করেই বিমা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিমা সংস্থাগুলি এখন আলাদা করে “ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম” আরোপ করতে শুরু করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রতিটি ফ্লাইটেই এখন বাড়তি বিমা খরচ যোগ হচ্ছে।
5
9
বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক বিমান সংস্থাই এই অতিরিক্ত খরচের বড় অংশ নিজেরাই বহন করছে। এর উদ্দেশ্য একটাই—হঠাৎ করে যাতে যাত্রীদের টিকিটের দাম খুব বেশি না বেড়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ টিকিটের দামের ওপর পড়তে পারে।
6
9
শুধু বিমা খরচই নয়, বিমান সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দামে।
7
9
এই পরিস্থিতিতে কিছু বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করা শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের কিছু রুটে ফুয়েল সারচার্জ চালু করেছে। অন্য বিমান সংস্থাগুলিও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
8
9
ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন—বিশেষ করে কর্মসূত্রে বা ব্যবসায়িক কারণে। তাই এই রুটগুলি ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন জ্বালানি খরচ এবং বিমা প্রিমিয়াম—দু’দিক থেকেই ব্যয় বাড়ায় এয়ারলাইনগুলির আর্থিক চাপ বেড়েছে।
9
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বিমান সংস্থাগুলিকে ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হতে হতে পারে। ফলে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।