মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলতি উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবার আলোচনায় উঠে এসেছে বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী। অনেকেই দাবি করছেন, তিনি নাকি ২০২৬ সালে বড় ধরনের বিশ্ব সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যদি সত্যিই বড় যুদ্ধ হয়, তবে কি তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভারতীয় মুদ্রার ওপর?
2
10
বিভিন্ন ব্যাখ্যায় বলা হয়, বাবা ভাঙ্গা নাকি ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। যদিও এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট লিখিত প্রমাণ নেই। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব প্রায়ই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ে।
3
10
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে তেল উৎপাদন এবং পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই রুটে কোনও বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
4
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সংঘাত শুধু জ্বালানির বাজারকেই প্রভাবিত করে না, বরং মুদ্রার মূল্যেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতীয় মুদ্রার ওপর পড়তে দেখা গেছে।
5
10
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যখন বিশ্বে রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা বাড়ে, তখন অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে টাকা তুলে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। এর ফলে উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ডলারের চাহিদা বাড়ায় টাকার ওপর চাপও বেড়েছে।
6
10
ভারতের অর্থনীতির একটি বড় দুর্বলতা হল তেলের আমদানি নির্ভরতা। এখানকার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশের জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হয়।
7
10
যদি যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটে, তাহলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। এতে ভারতের আমদানি বিল বাড়বে এবং অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে টাকার মূল্যও দুর্বল হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
8
10
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে শেয়ার বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় উন্নয়নশীল বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নিতে পারেন। এর ফলে মুদ্রার অবমূল্যায়ন হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
9
10
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলছেন, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাস্তব অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—এই সব কিছুর ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনে ভারতীয় টাকার গতিপথ।
10
10
সুতরাং, ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হোক বা না হোক, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর পড়বে—এটাই বাস্তবতা।