ছ'কোটি টাকা তছরুপের মামলায় চার মাস তিহার জেলে কাটানোর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সন্দীপা বির্ক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেলের সেই দুর্বিষহ দিনগুলোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
সন্দীপা জানান, তিহার জেলের অভিজ্ঞতা এতটাই ভয়াবহ যে তিনি তাঁর চরম কোনও শত্রুর জন্যও এমন সাজা কামনা করেন না। প্রথম দিন জেলের শৌচাগার দেখে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি ঈশ্বরকে বলতাম, আমি এই নরকবাসের যোগ্য নই। মনে হত মরে যাই।”
সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক ছিল তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা হওয়া। সন্দীপা আক্ষেপ করে বলেন, “জেলে যখন বাবা-মা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি যে আমার জন্য তাঁদের এখানে আসতে হচ্ছে।”
সন্দীপা জানান, বন্দি জীবন ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর এবং মানসিক চাপে ঠাসা।শৌচাগারগুলো ছিল অত্যন্ত নোংরা এবং মেঝেতে ঘুমাতে হত। তিনি জানান, প্রতিদিন একই ডাল, সবজি, চারটি রুটি আর ভাত। খাবারের মান এতটাই খারাপ ছিল যে মুখে তোলা যেত না।অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় তাঁর শরীর ভেঙে পড়েছিল, এমনকী কারওর সাহায্য ছাড়া তিনি দাঁড়াতেও পারতেন না।
সন্দীপা দুঃখ করে বলেন যে, খুনের আসামিদের সঙ্গেও দয়ালু আচরণ করা হয়, কিন্তু তাঁকে 'প্রতারক' বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মুম্বই ফেরার পর তিনি লক্ষ্য করেন বিনোদন জগতের অনেক বন্ধু তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আনফলো করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “প্রযোজকরা বড় বড় কথা বলতেন, কিন্তু বিপদে কেউ পাশে থাকে না। আসলে ওপরওয়ালা না চাইলে কেউ কাউকে কিছু করে দিতে পারে না।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেয়। এই মামলার মূল অভিযুক্ত অমিত গুপ্ত এখনও পলাতক।
