আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপি শাসিত ওড়িশায় ফের এক বাঙালি শ্রমিককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। শেষপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে নিগৃহীতের। মৃতের নাম আমিরুল শেখ (৫০) বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের অন্তর্গত মিঠিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুকুরকোনা গ্রামের নয়াপাড়া এলাকায়।
খুশির ইদের আগে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে গ্রামের বাড়িতে আমিরুলের মৃত্যু সংবাদ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিককে একটি বিজেপি শাসিত রাজ্যে খুনের ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনীতি।
প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বর মাসে ওড়িশার সম্বলপুর জেলায় বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অন্তর্গত চকবাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা নামে বছর একুশের এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। জুয়েলকে বাঁচাতে গিয়ে ওই দিন গুরুতর আহত হয়েছিলেন পলাশ শেখ এবং আমির শেখ নামে আরও দুই যুবক।

পরিযায়ী শ্রমিক খুনের সেই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুর্শিদাবাদের বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বাংলাদেশী সন্দেহে অত্যাচারের ঘটনা একের পর এক প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। মাস খানেক আগে ঝাড়খন্ড রাজ্যে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকার এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করার ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা এলাকা।
এবার বাংলা ভাষায় কথা বলার 'অপরাধে' মুর্শিদাবাদের আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করার অভিযোগ উঠল বিজেপি শাসিত ওড়িশা রাজ্যে। সূত্রের খবর মুর্শিদাবাদের ওই পরিযায়ী শ্রমিক ওড়িশার বারিপদা জেলায় একটি গ্রামে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৬ মার্চ ওই শ্রমিকের উপর অজ্ঞাত পরিচয় কিছু দুষ্কৃতী হামলা করে বলে তাঁর পরিবারের অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় আমিরুলকে তাঁর পরিবারের লোকেরা ওড়িশা থেকে ফিরিয়ে এনে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রায় ১১ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় আমিরুলের। আইনগত জটিলতার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ওই ব্যক্তির দেহের ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি।
মৃতের পরিবারের লোকেদের অভিযোগ বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে আমিরুলের উপর হামলা হয়েছে।
মৃত ওই পরিচয় শ্রমিকের মেয়ে পিয়ারা বিবি বলেন,"আমরা চার বোন, তিন ভাই। পরিবারের আর্থিক হাল ফেরানোর জন্য বাবা কন্ট্রাক্টরের অধীনে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন।"
তিনি বলেন,"গত কয়েকদিন আগে সন্ধে নাগাদ ঠিকাদারকে নিয়ে বাবা বাজারে মাছ কিনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার ফিরে এসে বাবাকে আর বাজারে দেখতে পাননি। ওই দিন রাতে খাওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও বাবাকে দেখতে না পেয়ে সকলে তাঁর খোঁজ শুরু করেন। সেই সময় বাবা যেখানে থাকতেন সেই এলাকা থেকে কিছুটা দূরে বাবাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।"
মৃত ওই ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ-বাংলাদেশী সন্দেহে আমিরুলকে ওড়িশায় প্রচন্ড মারধর করা হয়েছে।
মৃত ওই পরিযায়ী শ্রমিকের মেয়ে আরও বলেন,"ওড়িশায় আমার বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন এই খবর ঠিকাদার আমাদেরকে দিলেও তিনি কারও বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে রাজি হননি। ঠিকাদার আমাদের জানিয়ে ছিলেন ভবিষ্যতেও তাঁদেরকে ওড়িশায় কাজ করতে হবে, সেই কারণে তাঁরা ভয়ে কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছেন না। গোটা বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।"
রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা রঘুনাথগঞ্জের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন ,"ভারতের যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপির শাসন রয়েছে সেখানে বাঙালি মুসলিমদের নিধন চলছে। ওই ব্যক্তি সাধারণ পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে ওড়িশায় গিয়েছিলেন কিন্তু সেখানে তাঁকে খুন করা হয়েছে।"
তিনি বলেন ,"ইতিমধ্যে আমি রঘুনাথগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করে এই ঘটনায় একটি 'জিরো এফআইআর' দায়ের করে ওড়িশায় পাঠাতে অনুরোধ করেছি। কলকাতার ভবানীপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেহটির ময়নাতদন্ত করে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"
