দেশের করব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন আয়কর বিধি ২০২৬ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্যাক্স ফর্ম ও ফাইলিং প্রক্রিয়া।
2
11
আয়কর দফতরের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে করদাতাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া অনেক সহজ হবে এবং ভুলভ্রান্তিও কমবে। একইসঙ্গে প্যান, টিডিএস এবং এআইএস তথ্য একত্রিত হওয়ায় কর ফাঁকি রোধেও সুবিধা হবে।
3
11
নতুন নিয়মে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ফর্মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল টিডিএস এবং আয় সংক্রান্ত তথ্যের স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়। আগে করদাতাদের আলাদা করে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হত। এখন অধিকাংশ তথ্য সরাসরি প্রি-ফিলড আকারে পাওয়া যাবে।
4
11
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেতন, সুদ, ডিভিডেন্ড, শেয়ার লেনদেন এবং টিডিএস সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি আইটিআর ফর্মে যুক্ত থাকবে। ফলে করদাতাদের হাতে আলাদা করে তথ্য এন্ট্রি করার ঝামেলা কমবে। এতে ভুল তথ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।
5
11
এআইএস এবং ফর্ম ২৬এএস মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। করদাতার সমস্ত আর্থিক লেনদেন এখন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে। ব্যাঙ্ক সুদ, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, মিউচুয়াল ফান্ড বা উচ্চমূল্যের কেনাকাটার তথ্যও এতে যুক্ত থাকবে।
6
11
প্যান এবং আধার সংযোগের ওপর এবার আরও বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। প্যান যাচাই না থাকলে রিটার্ন প্রসেসিংয়ে সমস্যা হতে পারে। সরকার চাইছে প্রতিটি করদাতার তথ্য একক ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আনতে।
7
11
কোম্পানি ও নিয়োগকারী সংস্থাগুলির জন্যও নিয়ম কঠোর হয়েছে। টিডিএস কাটার তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপলোড না করলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এতে কর্মচারীদের ট্যাক্স ক্রেডিট দ্রুত আপডেট হবে।
8
11
কম আয়ের করদাতা ও পেনশনভোগীদের জন্য সরলীকৃত রিটার্ন ফর্ম আনা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এতে প্রথমবার রিটার্ন ফাইল করা ব্যক্তিদের সুবিধা হবে এবং ডিজিটাল ফাইলিংয়ের প্রবণতা বাড়বে।
9
11
এআইএস ও অন্যান্য ডিজিটাল ডেটাবেসের সমন্বয়ের ফলে আয় গোপন করা এখন অনেক কঠিন হবে। আয়কর দফতর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করবে।
10
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আয়কর বিধি ২০২৬ মূলত “ফেসলেস” এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল করব্যবস্থার দিকে বড় পদক্ষেপ। এতে সাধারণ করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হলেও তথ্যের স্বচ্ছতা অনেক বেশি বাড়বে। ফলে ভুল তথ্য বা আয় গোপনের সুযোগ কমে যাবে।
11
11
কর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, করদাতাদের নিয়মিত এআইএস ও ফর্ম ২৫এএস মিলিয়ে দেখা উচিত। পাশাপাশি প্যান আধার সংযোগ এবং ব্যাংক তথ্য আপডেট রাখাও অত্যন্ত জরুরি। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতেই অধিকাংশ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।