আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার বেলা গড়িয়ে তখন বিকেল, তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন তখন অবশ্যম্ভাবী। এই পরিস্থিতিতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল ভোট গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা, ছিলেন সন্ধে পর্যন্ত। তার মাঝেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন, ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে এবং তাঁকে ‘জোর করে’ হারানো হয়েছে। মঙ্গলবার বেলাতেও একই অভিযোগে অনড় তিনি। গণনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ 'ভিত্তিহীন' ও 'মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার ডিইও। 

এক বিবৃতিতে ডিইও জানিয়েছেন, 'আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে ১৫৯-ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত এবং সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী আবশ্যক সমস্ত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অত্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে।'

গণনার কেন্দ্রের মধ্যে তাঁকে মারধর করাও হয়েছে বলেও সাখাওয়াতে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। মঙ্গলবার তিনি বলেন, "মমতার আরও অভিযোগ জানান, ‘‌কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।" শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, "‌পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।" সেই প্রসঙ্গে ডিইও-র বিবৃতিতে উল্লেখ, 'সিসিটিভি ক্যামেরা কখনওই বন্ধ করা হয়নি; তাছাড়া তৃণমূল প্রার্থী এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং নিছকই মনগড়া।'

মমতা ব্যানার্জির গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ দিন ডিইও বলেন, "গণনা প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল, কারণ তিনি নিজেই তা থামিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন; তবে পরবর্তীতে নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁকে অবহিত করে গণনা পুনরায় শুরু করা হয়।"