আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেষ হল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর ভোট শেষ হওয়ার পরই প্রকাশিত হল এক্সিট পোল। একাধিক এক্সিট পোল অনুযায়ী, বাংলায় এবারের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সরকার গড়ছে বিজেপি।
তবে, প্রজা পোল অ্যানালিটিক্স ছাড়া কোনও সংস্থাই একপেশে এক্সিট পোল দেয়নি। অর্থাৎ, এক্সিট পোল অনুযায়ী টানটান লড়াই হতে পারে দুই হেভিওয়েট দলের মধ্যে। তবে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপিই।
পিপলস পালসের তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল পেতে পারে ১৭৭-১৮৭টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৫-১১০টি আসন। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট পেতে পারে ১টি আসন এবং কংগ্রেস পেতে পারে ১-৩টি আসন।

একনজরে দেখে নিন এক্সিট পোলে কোন সংস্থা কী বলছে:
পিপলস পালস: বিজেপি ৯৫-১১০, তৃণমূল ১৭৭-১৮৭, বাম ০-১, কংগ্রেস ১-৩, বিজিপিএম ১-২
প্রজা পোল অ্যানালিটিক্স: বিজেপি ১৭৮-২০৮, তৃণমূল ৮৫-১১০, অন্যান্য ০-৫
চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস: বিজেপি ১৫০-১৬০, তৃণমূল ১৩০-১৪০, অন্যান্য ৬-১০
পোল ডায়েরি: বিজেপি ১৪২-১৭১, তৃণমূল ৯৯-১২৭, অন্যান্য ০-১
ম্যাট্রিজ: তৃণমূল ১২৫-১৪০, বিজেপি ১৪৬-১৬১, অন্যান্য ৬-১০
পি-মার্ক: বিজেপি ১৫০-১৭৫, তৃণমূল ১১৮-১৩৮, অন্যান্য ২-৬
এক্সিট পোল প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, 'আমি এক্সিট পোল নিয়ে কিছু বলতে চাই না। ভাবনাচিন্তার পর মানুষের যেটা মনে হয়েছে মানুষ সেটা করেছেন। যাঁরা বড় সংখ্যায় গণতন্ত্রের উৎসবেন যোগ দিয়েছেন আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। ৪ মে-এর পর থেকে দিদি আর থাকছেন না, একটাই ফল হবে।
অন্যদিকে, বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুনাল ঘোষ বলেন, 'এক্সিট পোল? ধুর! ২০২১ সালে ওরা বিজেপিকে এগিয়ে রেখে কী না বলেছিল, আর হয়েছিল উল্টো, সেসব মনে রাখুন। অকারণ মাথা ঘামাবেন না।'
উল্লেখ্য, বুধবার বাংলায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মোট ১৪২ আসনে ভোট ছিল। কোন জেলায় কত আসনে ভোট ছিল? একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
পূর্ব বর্ধমান জেলা (১৬)
খণ্ডঘোষ, রায়না, জামালপুর, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর, মন্তেশ্বর, কালনা, মেমারি, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, গলসি, পূর্বস্থলী উত্তর ও পূর্বস্থলী দক্ষিণ।
হুগলি জেলা (১৮)
সিঙ্গুর, চাঁপদানি, উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চুঁচুড়া, বলাগড়, চন্দননগর, পাণ্ডুয়া, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া, চণ্ডীতলা, সপ্তগ্রাম, তারকেশ্বর, ধনেখালি, আরামবাগ, পুরশুড়া, গোঘাট ও খানাকুল।
হাওড়া জেলা (১৬)
হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, বালি, শিবপুর, সাঁকরাইল, পাঁচলা, হাওড়া দক্ষিণ, উলিবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্যামপুর, উদয়নারায়ণপুর, আমতা, জগৎবল্লভপুর, ডোমজুড়।
কলকাতা (১১)
ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, কলকাতা বন্দর, জোড়াসাঁকো, মানিকতলা, শ্যামপুকুর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১)
গোসাবা, বাসন্তী, কুলতলি, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগর, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার, জয়নগর, বারুইপুর পূর্ব, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর, সোনারপুর দক্ষিণ, ভাঙড়, কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মহেশতলা, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ।
উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩)
বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হাবরা, অশোকনগর, আমডাঙা, বিজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, ব্যারাকপুর , খড়দা, দমদম উত্তর, পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসাত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মীনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জ।
নদিয়া জেলা (১৭)
করিমপুর, তেহট্ট, পলাশীপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদা, কল্যাণী, হরিণঘাটা।
এদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভবানীপুর, ভাঙড় এবং আরও দু'একটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া অশান্তির খবর মেলেনি।
তবে এদিনের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি।
ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে ভোট দিতে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
সেখান থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। দ্বিতীয় দফার ভোটে সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।
এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করে বলেন, 'লজ্জা করেনা! কী মার মেরেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রচণ্ড অত্যাচার চালিয়েছে। আমার কাছে রাজ্যের সব জায়গা থেকে খবর এসেছে।'
তিনি অভিযোগ করেন, 'শিশুদেরও ছাড়েনি, ওদের গায়েও হাত তোলা হয়েছে, মেয়েদের মেরেছে। বিজেপি ভেবেছে এসব করে জিতবে। তৃণমূলই জিতছে, বিজেপি হারছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তৃণমূল।















