বিভাস ভট্টাচার্য:‌ নিজেরা কেউই সরাসরি লড়াইয়ে নেই। আছেন তাঁদের পুত্ররা। প্রার্থী হিসেবে রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে তিন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। উত্তরপাড়া বিধানসভা থেকে লড়ছেন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির পুত্র শীর্ষণ্য ব্যানার্জি, পানিহাটি বিধানসভা থেকে বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং এন্টালি বিধানসভা থেকে বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার পুত্র সন্দীপন সাহা। তিনজনের মধ্যে তীর্থঙ্কর এবং সন্দীপন যথাক্রমে পানিহাটি পুরসভা এবং কলকাতা পুরনিগমের কাউন্সিলর। শীর্ষণ্য হাইকোর্টের ব্যস্ত আইনজীবী এবং ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। বিধানসভার লড়াইয়ে তিনজনেই এবার প্রথম লড়তে নেমেছেন। 

তবে প্রার্থীদের লড়াইটা ‌প্রথম হলেও তাঁদের প্রত্যেকের বাবাই কিন্তু এই বিধানসভা চেনেন হাতের তালুর মতো। উত্তরপাড়া বিধানসভা শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। কল্যাণ ব্যানার্জি এই লোকসভা কেন্দ্রের টানা চারবারের সাংসদ। পানিহাটির বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষ কংগ্রেস দলের হয়ে যেমন এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তেমনি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটেও নির্বাচিত হয়েছেন। এন্টালি বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, দুই বিধায়কই এবার নিজেরা সরে গিয়ে তাঁদের পুত্রদের প্রার্থী করার জন্য দলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। 

দল সেই অনুরোধ রাখার পর একেবারে প্রথমদিন থেকেই পুত্রদের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন তাঁরা। তবে ভোটের দিন দুই বিধায়ক তাঁদের পুত্রদের ভোট দিতে পারলেও সাংসদ ভোট দিতে পারেননি‌। কারণ, তিনি ভবানীপুর বিধানসভার ভোটার। ভোটের দিন তিনি উত্তরপাড়ায় আসেননি। কিন্তু সশরীরে উপস্থিত না থেকেও একাধিকবার খোঁজ নিয়েছেন। কথা বলেছেন পুত্র শীর্ষণ্য এবং উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকায় অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে। জানতে চেয়েছেন হাল হকিকত। সাংসদের কথায়, ‘‌উত্তরপাড়ার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে তাঁদের আপন করে নিয়েছেন। ফলে জয় নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।’‌ 

অন্যদিকে দুই বিধায়ক কিন্তু বুধবার ভোটের দিন যাকে বলে ‘‌চরকি পাক’‌ খেয়েছেন তাঁদের নিজ নিজ এলাকায়। নির্মল ঘোষের কথায়, ‘‌আজকের দিনটা আমার কাছে একটা আনন্দের দিন। আমার পুত্র আজ দীর্ঘ পরিশ্রমের পর এই জায়গায় উঠে এসেছে। মানব ধর্ম পালন করাটা আমার পরিবারের উদ্দেশ্য এবং আমার বিশ্বাস আমার পুত্র সেটাই পালন করবে। এদিন সকাল ৬টা থেকে খবর নেওয়া শুরু করেছি। যতটা আমার পুত্র তাঁর বিধানসভা এলাকার খোঁজ নিয়েছে ততটাই আমি নিয়েছি।’‌ 

পিছিয়ে নেই এন্টালির বিদায়ী বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহাও। এদিন তিনি এবং তাঁর স্ত্রী, দু’‌জনেই ঘুরে বেড়িয়েছেন এই বিধানসভার অলিতে গলিতে। স্বর্ণকমল সাহার কথায়, ‘‌আমার সঙ্গে আজ আমার স্ত্রী’‌ও ছিলেন। দু’‌জনে প্রতিটা ওয়ার্ড ঘুরেছি। এদিন যতটা আমার পুত্র ঘুরেছে ততটাই আমরা ঘুরেছি। মানুষের সাড়াও বেশ স্বতঃস্ফূর্ত। আমার ধারণা, আমি গত বিধানসভায় যত ভোট পেয়ে জিতেছিলাম তার থেকেও বেশি ভোটে আমার পুত্র জিতবে।’‌